পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সংঘর্ষের আশঙ্কা
বার্তা পরিবেশক◾কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙা এলাকায় কোটি টাকার চিংড়িঘের জবরদখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিংড়ি আহরণের ভরা মৌসুমে পুলিশি অভিযানের পরপরই রাতের অন্ধকারে একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল ঘেরের দিকে রওনা হওয়ার খবরে পুরো উপকূলজুড়ে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বড় মহেশখালীর ফকিরা ঘোনা এলাকা থেকে আলোচিত 'নেচার'-এর নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র বাহিনী কুতুবজোমের ঘটিভাঙাস্থ চিংড়িঘেরটি দখলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এলাকায় পরিচিত 'নেচার' গত ৫ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহিংসতা ঘটনায় দায়েরকৃত অন্তত দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্য মতে, বুধবার সন্ধ্যায় মহেশখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজল ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইকবালের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি পুলিশ দল আচমকা ঘটিভাঙার ওই চিংড়িঘেরে অভিযান চালায়। স্থানীয় অভিযোগ, পুলিশি তল্লাশির সময় ঘের থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং সেখানে পাহারায় থাকা অংশীদার ও সাধারণ শ্রমিকদের জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের এই অভিযানের পরই ঘেরটি পাহারাশূন্য ও অরক্ষিত হয়ে পড়ে। আর সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ছাত্র ইস্যুতে মামলার আসামি নেচারের নেতৃত্বে অস্ত্রধারীদের সশস্ত্র বহর ঘেরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে- এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ঘেরের শ্রমিক ও আশপাশের সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ঘটিভাঙার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এই চিংড়িঘেরটি মহেশখালী পৌরসভার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক সিকদারের স্বত্বীয় ও আইনগত মালিকানাধীন। ভরা মৌসুমে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি আহরণের সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি ভুঁইফোঁড় চক্র ঘেরটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ মালিকপক্ষের।
চিংড়িঘেরের মালিকপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সংঘাত এড়াতে এবং অস্ত্রধারী বাহিনীকে প্রতিরোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে কোস্ট গার্ড ও মহেশখালী থানা পুলিশের কার্যকর হস্তক্ষেপ না থাকলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটিভাঙায় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের দাবি উঠেছে।
