এস.এম রুবেল🔴 
...............................
দীর্ঘদিন যাবত ফার্মেসী যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মহেশখালী হাসপাতালে আগত রোগীরা। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে এত যন্ত্রণার নাম শুনেছি কিন্তু ফার্মেসী যন্ত্রণার নাম এই প্রথম শুনলাম। যারা ইতিমধ্যে রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তাদের অধিকাংশই হয়তো এই যন্ত্রণার সাথে পরিচিত হয়েছেন। প্রসঙ্গক্রমে আমার সরাসরি অভিজ্ঞতার সুবাদে শিরোনামোক্ত বিষয়ে অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছে। কয়েকটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরলাম:

#ঘটনা-০১ : হঠাৎ জরুরী বিভাগ থেকে রোগীর স্বজনদের আত্মচিৎকার শুনে সেখানে গেলাম। দেখি ছোট মহেশখালীস্থ জনৈক জমির নামের এক ব্যক্তি মূমুর্ষ অবস্থায় তার মা’কে নিয়ে আসল। কান্নাজড়িত কন্ঠে ছেলেটি ডাক্তারকে বলল,
-স্যার, আমার মা হঠাৎ অসূস্থ্য হয়ে পড়ে গেছেন। একটু তাড়াতাড়ি দেখেন।
কর্তৃব্যরত ডাক্তার দ্রুত রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন,
- আপনার মা “হাইপো গ্লাইসিমিক সক” রোগে ভূগতেছেন। ওনার দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। এই নিন আপনি এই ওষুধ গুলো দ্রুত নিয়ে আসেন।
ছেলেটি মায়ের জন্য ওষুধ আনতে হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত ফার্মেসীতে গেল।
এখান থেকেই শুরু হলো ফার্মেসী যন্ত্রনা। ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে রোগীকে লিখেছেন, Dextropac 10% ও Nentidex 25%, কিন্তু ফার্মেসী থেকে রোগীর ছেলেকে দেয়া হলো D/A 5%। তখন ডাক্তার এগুলো দেখে রোগীর ছেলেকে ফার্মেসীতে পাঠায় পরিবর্তন করে আনার জন্য। ঔষুধ পরিবর্তনের জন্য রোগীর ছেলে আবার ফার্মেসীতে গেল । কিন্তু ফার্মেসীতে কর্মরত জনৈক ব্যক্তি আবারও ওষুধ ঠিক আছে বলে ঐ D/A 5% দিয়ে তাকে ফেরৎ পাঠায়। তখন ডাক্তার পূণরায় উক্ত ওষুধ দেকে প্রেসক্রিপশন অনুবলে ওষুধ আনার জন্য রোগীর ছেলেকে আবারও ফার্মেসীতে পাঠায়। কিন্তু এবারও ফার্মেসী থেকে ওষুধ ঠিক আছে বলে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। একদিকে রোগীর মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থা অপরদিকে ওষুধ নিয়ে রোগীর ছেলের ডাক্তার টু ফার্মেসী পরপর কয়েকবার যাত্রা। এবার কিছুটা রাগান্বিত হয়ে রোগীর ছেলে ঐ ফামের্সী থেকে ওষুধ না নিয়ে অন্য ফার্মেসী থেকে সঠিক ওষুধ এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ঘটনা-০২ : গতকাল রাতে ব্যাথার কারণে এক রোগী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আসল। ডাক্তার রোগীর অবস্থা পর‌্যবেক্ষন করে রোগীকে ওষুধ লিখে দিল। রোগী হাসপাতাল সড়কের ফার্মেসী থেকে ওষুধ নিয়ে পূণরায় যাছাই করার জন্য ডাক্তারে কাছে আসলেন,
-স্যার, আমি অশিক্ষিত, মুর্খ মানুষ পড়ালেখা জানিনা, গতবার ফার্মেসী থেকে আমাকে ওষুধ ভূল দিয়েছিল, তাই এবার একটু দেখেন না ফার্মেসী থেকে দেয়া ওষুধ গুলো ঠিক আছে কি না?
তখন ডাক্তার ওষুধ সমূহ থেকে একটা ওষুধ হাতে নিয়ে অবাক হয়ে বললেন,
-এই ওষুধটা কেন দিল? এটাতো আমি লিখি নাই।
তখন স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম,
-স্যার কি হলো? ওষুধকি কি পরিবর্তন করে দিয়েছে?
-হ্যাঁ, আমি প্রেসক্রিপশনে অন্যান্য ওষুধের সাথে Esoma-500mg লিখলাম। কিন্তু ফার্মেসী থেকে দিল Emaprox-375mg। এত পরিবর্তন কেন?

ঘটনা-০৩ : মধ্য রাতে অসূস্থ্যতা বোধ করায় পরিচিত এক বন্ধু তার বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসল। কর্তৃব্যরত ডাক্তার রোগীর অবস্থা পর‌্যবেক্ষনের পর ওষুধ লিখে দিয়ে ঠিকমত সেবনের উপদেশ দেয়। ঐ বন্ধু হাসপাতাল সম্মুখে অবস্থিত ফার্মেসী থেকে তাড়াহুড়ো করে ওষুধ নিয়ে বাড়ীতে চলে যান। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো তার বাবাকে ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে। দেখলো, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দুটি ওষুধ কম আছে। নিরুপায় হয়ে বাকি ওষুধ গুলো তার বাবাকে খাওয়ালো। পরদিন যখন ঐ ফার্মেসীতে কর্মরত ব্যক্তির নিকট ওষুধ কম দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইল তিনি বলেন,
-প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আমার দুটি ওষুধ ছিলনা তাই কম দিয়েছি।
-ওষুধ যে কম দিয়েছেন সেটা আমাকে জানাবেন না?
তিনি হাসিমুখে জবাব দিলেন,
-ওষুধ কম আছে এটা জানালে কি আপনি আমার কাছ থেকে ওষুধ নিতেন?

প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনুরূপ ঘটনা বহু ঘটে যাচ্ছে। এসব ফার্মেসী থেকে ওষুধ ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছে স্থানীয় দরিদ্র জনসাধারণ। ফার্মেসী ব্যবসা করা এসব ব্যক্তিদের অসাধু ব্যবসার ফলে ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ সেবন না করে, ভূল ওষুধ সেবনের ফলে হুমকির মুখে পড়ছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অনেক রোগীর জীবন। আর রোগ ভাল না হওয়ায় অনেক সময় দায়ভার পড়ছে ডাক্তারদের উপর। তাই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে হয়।
শেয়ার:

মন্তব্য দিন: