মাহবুব রোকন
অনেক মন্দ কাজের ভিড়ে পুলিশ কখনোসখনো কিছুটা ভালো কাজও করেন। এতে বাহিনীর সুনাম উড়ে। এমন একটি ছোটো দৃশ্য দেখা গেলো গতকাল দুপুরের পর। আদিনাথ মন্দির এলাকা। অসহ্য রকমের ভিড়, সময় মতো পুজা দিতে হবে তাই সবাই যে যার মতো নিজের বিষয়ে ব্যস্ত। মা-তুল্য বুড়ো নারীটি কাতর স্বরে সবার কাছে আকুতি রেখে চলছে -তারে যেনো মূল মন্দিরে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হয়। বহু সময় ধরে এই অবস্থা চলার পর দৃশ্যটি সবাই অগ্রাহ্য করলেও এমন মানবিক ছবিটি চোখ এড়ায়নি একজন পুলিশ কনস্টবলের। 

পাঁজাকোলা করে বুকে তুলে নিলেন প্রায়ই হাটতে অক্ষম এই মা-মানুষটিকে। মন্দিরের একেবারে জিরো পয়েন্টে নিয়ে গিয়ে পুজা ও প্রাণখুলে প্রার্থনা করবার সুযোগ করে দিয়ে শেষতক কোলে করে আবার রেখে আসলেন নিরাপদ অবস্থানে। ডিউটির ব্যস্ততম সময়ে এই ছোটো একটি কাজ করতে পেরে বেশ প্রফুল্ল এই মুসলিম পুলিশ। নিদিষ্ট লগ্নের ভেতরে পুজা দিতে ব্যস্ত পূণ্যার্থী ও প্রথম দিকে এমন দৃশ্যটি গুরুত্বভরে খেয়াল না করলেও পুজা দিয়ে ফেরার পথেও অনুরূপ দৃশ্য চোখে পড়ায় উপস্থিত লোকজনের কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে ভাবনায় পড়ে। অনেকে মন্তব্য কিংবা প্রশ্ন করেন বয়স্ক নারীটি হয়ত পুলিশ সদস্যের মা, দাদি অথবা নানিমা হবেন। 

তবে খোজ নিয়ে জানাগেছে ওই পুলিশ সদস্য একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী। তিনি মহেশখালী থানা কনস্টবল মোঃ আফতাব উদ্দিন। তার কনস্টবল নম্বর -৫২৯ । তিনি নোয়াখালির কবিরহাট এলাকার মৃত বেলায়েত হোসেনের সন্তান। 

জানতে চাইলে এই পুলিশ কনস্টবল বলেন -গতকাল দুপুরের পরে আদিনাথ এলাকায় তার নিয়মিত ডিউটি ছিল। এ সময় তিনি দেখতে পান পাহাড়ের নিচে মন্দিরের সম্মুখ অংশে এক বৃদ্ধ নারী ভিড় ঠেলে পুজা দেওয়ার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে না পারায় সবাইকে জনে জনে অনুরোধ করে বেড়াচ্ছে তাকে একটু মন্দিরে নিয়ে যেতে। অথচ ব্যস্ততার জন্য কেউই তাঁর এই প্রস্তাবে কর্ণপাত করছে না। কটু দুরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে এই দেখতেছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে মনকে মানাতে না পেরে তিনি নিজেই বৃদ্ধাকে কোলে তুলে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে পুজা সেরে ফের ওই জায়গায় এনে রেখে যান। বৃদ্ধার এই অবস্থা দেখে পুলিশ সদস্য তার নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে যায় বলে জানান। বৃদ্ধ নারীটি তার জন্য অনেক দোয়া-আশীর্বাদ করেছে, এটিই তার বড়ো পাওনা বলে জানান এই পুলিশ সদস্য। 

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় এমন ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র বিষয়টি বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পর পর্যন্ত আদিনাথ এলাকায় প্রত্যক্ষদর্শীদের দেশে ‘ভালো পুলিশ - মন্দ পুলিশ’ নিয়ে অনেক কথা জুড়ে দিতে।
শেয়ার:

মন্তব্য দিন: