Advertisement


২৪ জুন প্রথম সচল হয় কেন্দ্র, কাল থেকে মাতারবাড়িতে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন


মাহবুব রোকন ও রকিয়ত উল্লাহ।। আগামীকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে মাতারবাড়ি  বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হচ্ছে। সম্ভব্য সময়ের আগেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের যোগ্য হয়ে উঠলো কেন্দ্রটি। কাল বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলেও মাতারবাড়ির এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল হয়ে চুল্লি থেকে ধোঁয়া বেরিয়েছিলো আরও আগে, গত ২৪ জুন সকালে।

জানা গেছে- মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি চালু করতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কোলপাওয়ার জেনারেশন কর্তৃপক্ষ। এই ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কাল দিনের যে কোনো সময় শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

তিনি জানান- মাতারবাড়ি পাওয়ার প্ল্যান্টের দুইটি ইউনিটের মধ্যে প্রথমটি কাল পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। তিনি বলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে ইউনিটটি নিয়মিত উৎপাদন প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্ল্যান্টের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট। ইতোমধ্যে আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাসে এ কেন্দ্রটি পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আগামী বছরের জুলাই মাসে এটি পুরোপুরি চালুর পূর্ব পরিকল্পনা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্রে জানা যায় - কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নে এক হাজার ৬০৮ একর জমির ওপর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং জাইকার মধ্যে একটি ঋণ চুক্তি সই হয়। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তার প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

জানা গেছে- পুরো প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রতিদিন ১০ হাজার টন ও প্রতিটি ইউনিটে পাঁচ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হবে। এখন পর্যন্ত এখানে দু’লাখ টন কয়লা সংরক্ষণ রয়েছে বলে জানা যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিদেশ থেকে জাহাজে করে নিয়মিত কয়লা আসতেছে মাতারবাড়িতে। জাহাজ থেকে সরাসরি ট্যাঙ্কে কয়লা আনলোড করার জন্য প্রকল্প এলাকায় দু’টি জেটির পাশাপাশি ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন স্টোরেজ ক্ষমতার চারটি ট্যাঙ্ক ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে। ট্যাঙ্কগুলোতে দুই মাসের জন্য কয়লা সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। জাহাজ থেকে কয়লা সরাসরি জেটি থেকে ট্যাঙ্কে আনলোড করতে দেড় থেকে দু’দিন সময় লাগে এবং কয়লা খালাস করা ও পরিবেশবান্ধব হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক এমপি জানান- "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেঘা প্রকল্পের অন্যতম মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প। এটি পুরোদমে চালু হওয়ার সাথে সাথে দেশে বিদ্যুৎ খাতে বিরাট ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মহেশখালীসহ কক্সবাজারের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে।"

এদিকে সূত্র জানিয়েছে- আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে বলে সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হলেও মূলতঃ গত কয়েক মাস আগেই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করে ফেলেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। গত কিছুদিন ধরে দিনে একাধিকবার ট্রায়াল দিয়ে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন তারা। মূলতঃ গত ২৪ জুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি সচল করা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার দীর্ঘদিন পর ওইদিন মাতারবাড়ি ও ধলঘাটার লোকজন বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার শব্দ শুনতে পায়, চিমনি থেকে বেরুতে দেখেন ধোঁয়। সেদিন সকাল ৮টা থেকে টানা ৪ঘণ্টা চুল্লি জ্বালিয়ে প্রথমবারের মতো বয়লার সচলের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আগামীকাল প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এভাবে কিছুদিন চালার পর আনুষ্ঠানিক উৎপাদনে যাবে কেন্দ্রটি।