Advertisement


মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের ডাকা প্রতিবাদ সভা পণ্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার অভিযোগ


রকিয়ত উল্লাহ।। মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণের ক্ষতিপূরণ, চাকরির নিশ্চয়তা এবং নতুন ভূমি অধিগ্রহণ বন্ধের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পণ্ড হয়ে গেছে।  

শনিবার ৩০ আগস্ট বিকাল ৫টায় মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের ২ নম্বর গেইটের সামনে মহেশখালী জন সুরক্ষা মঞ্চ ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহ একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। শতাধিক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে সভা শুরু হওয়ার আগেই কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাঠিয়ে সভা বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেন জন সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি নুর মোহাম্মদ।  

তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোলপাওয়ার কর্তৃপক্ষ আমাদের সেই অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছে। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”  

উল্লেখ্য, মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনার সময় সিপিজিসিবিএল ও জাইকা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একটি পুনর্বাসন পুস্তিকাও প্রকাশ করে তা স্থানীয়দের মাঝে বিতরণ করা হয়। পুনর্বাসন পুস্তিকায় ক্ষতিপূরণের জন্য তালিকাভুক্ত শ্রেণির বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন এর প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একজন সদস্যকে যোগ্যতা অনুযায়ী স্থায়ী চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।  

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার ও মোঃ আলী বলেন, “প্রকল্পের কারণে আমাদের এলাকার মানুষ জমি ও কর্ম হারিয়েছে। তারা প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল, কিন্তু পুলিশের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। আমরা কোলপাওয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই, যেন ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য দাবি পূরণ করা হয়।”  

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সূত্রের দাবি- বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চাহিদার প্রেক্ষিতে পুলিশ এ উদ্যোগ নেয়, তাছাড়া এ আয়োজনের বিষয়ে প্রশাসনের পূর্ব অনুমতিও ছিলো না। 

এ বিষয়ে কোলপাওয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  

সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।