-->
 পৌরসভার চরপাড়ায় সরকারি বন উজাড় করছে এরা করা?

পৌরসভার চরপাড়ায় সরকারি বন উজাড় করছে এরা করা?


সব খবর প্রতিবেদন।। মহেশখালী পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট চরপাড়া এলাকার দৃষ্টিনন্দন সরকারি বাগান উজাড় করে গাছ কেটে নিচ্ছে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র। দিনের পর দিন এ কাজ চলতে থাকলেও এ সবের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি নেই, নেই কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাও। এ বিষয়ে রক্ষক হিসেবে থাকা বন বিভাগের লোকজনের প্রতি ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রতি আঙ্গুল তুলছে স্থানীয়রা। এ নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে এক সময় এ দৃষ্টিনন্দন বাগানটিই উজাড় হয়ে যাবে বলে আশংকা তাদের। 

শুক্রবার ওই এলাকা পরিদর্শন করে দেখাগেছে -গত কিছুদিন আগেও বাগানে যে সব গাছ শোভা ছড়াচ্ছিলো, আজ সে সব গাছের অনেকটিই নেই। দুর্বৃত্তরা একের পর এক কেটে নিয়ে সাবাড় করছে এ সব শোভাবর্ধনকারি বৃক্ষগুলো। তবে এ সবের সাথে স্থানীয় বন বিভাগের লোকজনসহ একটি শক্ত সিন্ডিকেট যুক্ত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

জানাগেছে -মহেশখালী পৌর এলাকার পর্যটনপ্রিয় স্থানগুলোর একটি এই চরপাড়া সৈকত এলাকাটি। বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা একটু অবসর যাপনের জন্য এ এলাকাটিতে ঘুরতে যান। তাছাড়া প্রায়সময় দেশিবিদেশী পর্যটকরাও এ এলাকাটি ঘুরতে আসেন। মহেশখালী ভ্রমণে আসলেই অনেক পর্যটকের পছন্দের তালিকায় থাকে এ সৈকত এলাকাটি। এখানে দীর্ঘ সৈকতের বালিয়াড়ি ও বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠের উপর সারি সারি ঝাউগাছ, সমুদ্রের শান্ত হাওয়া -মানুষকে মুগ্ধ করার মতো। তাই দিনশেষে একচিলতে শান্তি খোঁজার জন্য মানুষ ওই এলাকাটি ভ্রমণে যান। বর্তমানে ক্রমান্বয়ে এ এলাকাটি স্থানীয় অপরাধীদের বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় লোকজন ওই এলাকা ভ্রমণে ক্রমশ নিরুৎসাহিত হচ্ছে বলে সূত্রে প্রকাশ। 

সূত্র জানায় -স্থানীয় জেলেপল্লী হওয়ায় ওই এলাকাতে জেলেদের বিচরণ রয়েছে, রয়েছে মাছ ধরা ও মাছ ব্যবসা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট লোকজনের যাতায়াত। এ চরপাড়াটি মূলত রোহিঙ্গাবহুল এলাকা। মূল এলাকার সাথে ওই এলাকার যোগাযোগ কম থাকায় বা যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব উন্নত না থাকায় এখানকার মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতার নজির দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় এখানে খুন-সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। নিকট অতিথেও এখানে একটি চাঞ্চল্যকর  ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া এ চরপাড়া এলাকায় গোপন কারখানা বসিয়ে নিষিদ্ধ হাঙ্গরের তেল উৎপাদন করা হচ্ছিল। এখানে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কারখানাটি জব্দ করেছিল সে সময়। তাছাড়া বহুদিন আগে এখানে এক কলেজ ছাত্রী খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে সূত্রে প্রকাশ। বর্তমানে ওই এলাকায় ইয়াবা ও মাদকের বিকিকিনি চলে বলেও সূত্রের দাবি। 

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের তথ্য মতে জানাযায় -এ চরপাড়াকেন্দ্রিক প্রায় সকল ঘটনায় স্থানীয় গুটিকয়েক প্রভাবশালীর হাত রয়েছে। তাদের ইশারায় চলে সব ধরণের কর্মকাণ্ড। তাছাড়া ঝোপের আড়ালে অবৈধ কাট দিয়ে বোট তৈরির জন্য এটি দীর্ঘদিন থেকে অঘোষিত ইয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। অবৈধ চোরাই কাটের ব্যবসা ও তার আনা-নেওয়া এবং অনুমোদনহীন বোট নির্মাণের সাথে স্থানীয় এ প্রভাবশালীরা সরাসরি জড়িত বলে সূত্রের তথ্য। মূলতঃ দীর্ঘদিন থেকে এ সরকারি বাগানের গাছ কেটে আসছে অবৈধ কাট ব্যবসায়ী এ চক্রটি। আর তারা স্থানীয় বন বিভাগকে ম্যানেজ করে এ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানাযাচ্ছে।    

এমন পটভূমিতে সাধারণের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে কেনো মহেশখালীর গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি পর্যটন স্পটে গাছখেকোচক্র ও অপরাধ চক্রের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না, কেনোইবা বন বিভাগ নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে? মূলতঃ কারাই এই প্রভাবশালী অপরাধী?       

শিরোনাম ছিলো.. " পৌরসভার চরপাড়ায় সরকারি বন উজাড় করছে এরা করা? "

Post a Comment

Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel