আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

কালারমার ছড়ায় সরকারি চাল দিবে বলে মৎস্যজীবি লীগের ফরম বিক্রি - মহেশখালীর সব খবর

কালারমার ছড়ায় সরকারি চাল দিবে বলে মৎস্যজীবি লীগের ফরম বিক্রি


কাব্য সৌরভ, কালারমার ছড়া থেকে।।

কালারমার ছড়ায় মৎস্যজীবি লীগের সদস্য হলে দেওয়া হবে জেলে কার্ড, মিলবে সরকারি চাল এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে সদস্য ফরম -অভিযোগ ভুক্তভুগীদের।

খবর নিয়ে জানা যায়, কালারমার ছড়ার বিভিন্ন ওয়ার্ড়ে গোপনে আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের প্যাড সম্বলিত এসব সদস্য ফরম বিক্রি করছে একদল লোক। তাদেরই একজন মুজিবুর রহমান জানান -১'শ টাকা করে এসব ফরম বিক্রি করতে বলেছে কালারমার ছড়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবি লীগের সভাপতি নুরুল কাদের। ১'শ টাকার কম হলে ফরম না দিতে বারণ করেছেন তিনি। এইসব ফরম বাবৎ ১'শ টাকা নেওয়ার দলীয় কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি জানেন না নুরুল কাদের জানেন। মুজিবুর রহমান ১ নং ওয়ার্ড়ে ৫১ টি ফরম বিক্রি করেছেন। কালারমার ছড়ার ২ নং ওয়ার্ড়ে ৭৮ টি ও ৪ নং ওয়ার্ড়ে ১০৮টি সহ পুরো ইউনিয়নে এভাবে ৬১৭ টি ফরম বিক্রি করেছেন তারা। -তথ্য স্থানীয়দের। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালারমার ছড়া  আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের সাবেক এক নেতা বলেন, এর আগেও নুরুল কাদের জেলে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও উপজেলা আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের সাধারণ সম্পাদকের প্রশ্রয়ে নুরুল কাদের দলকে বিক্রি করে পার পেয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে নুরুল কাদেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের খরচ বাবৎ এই টাকা নিচ্ছেন তারা ঠিক খরচ বাবৎ এই ১'শ টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং দলীয় নির্দেশনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ফোন কেটে দেন।

মহেশখালী উপজেলা মৎস্যজীবি লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান বলেন, দলীয় ফরম নিয়ে সদস্য হতে ১'শ টাকা নেওয়ার বিষয়ে দলীয় কোনো নির্দেশনা নাই। এবং আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের সদস্য হলে জেলে কার্ডের ভিত্তিতে সরকারি চাল দেওয়া হবে এই বিষয়টি সম্পূর্ণ অসত্য। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ এমন করলে তার সত্যতা পেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার প্রশ্রয়ে নুরুল কাদের দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে পার যাচ্ছেন এই বিষয়টি সত্য কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ঝাঁপুয়া এলাকার আব্দু রহমান বলেন, ১'শ টাকা দিতে না পারায় তাঁকে সদস্য ফরম দেওয়া হয়নি। যারা টাকা দিয়ে সদস্য ফরম কিনতে পেরেছেন তাদের কে সদস্য ফরম দেওয়া হয়েছে। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, তিনি জেলে কাজ করেন দীর্ঘদিন যাবৎ কালারমার ছড়ায় আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের সদস্য হতে ফরম চাইলে তাঁকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু ১'শ টাকা দিয়ে কলেজ ছাত্র থেকে শুরু করে অনেকে এই ফরম কিনেছে সরকারি চাল পাওয়া জন্য। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এইসব বিষয় খতিয়ে দেখে যারা দল কে বিক্রি করে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এমনটা প্রত্যাশা ভুক্তভোগী সাধারণের।

[ অভিযোগের বিষয়ে একাধিক অডিও, ভিডিওসহ দালিলিক প্রমাণ মহেশখালীর সব খবর এর সংরক্ষণে রয়েছে । ] 

No comments

Powered by Blogger.