আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

মহেশখালীতে ভুয়া আদেশের মাধ্যমে ৫ প্রধান শিক্ষকের পদ দখল! - মহেশখালীর সব খবর

⬤ আমাদের নতুন ওয়েবসাইটে স্বাগতম। ⬤ আমাদের ওয়েবসাইট www.moheshkhalirsobkhabor.com ⬤ ফেসবুক ফেইজ www.facebook.com/m.sobkhabor ⬤ ইউটিউব চ্যানেল www.YouTube.com/Sobkhabor24x7 ⬤ ফেসবুক গ্রুপ www.facebook.com/groups/m.sobkhabor ⬤

মহেশখালীতে ভুয়া আদেশের মাধ্যমে ৫ প্রধান শিক্ষকের পদ দখল!


আ ন ম হাসান।। ভুয়া আদেশ তৈরি করে মহেশখালীতে ৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  পদ দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুলগুলো হলো চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাপলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাজিয়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর রাজঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তদন্তাধিন বলে জানাগেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায় -চরপাড়া বিদ্যালয়ে আহম্মদ উল্লাহ, তাজিয়াকাটা বিদ্যালয়ে নুরুল ইসলাম, শাপলাপুর বিদ্যালয়ে লীলা প্রভা দে এবং উত্তর রাজঘাট স্কুলে কামাল হোসেন প্রত্যেকেই ভুয়া আদেশ তৈরি করে স্ব স্ব প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করে আছে। ইতোপূর্বে একজন সহকারী শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিস হতে একবার তদন্ত হলেও তাতে আশানুরূপ কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। 

মহেশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায় -২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে দেখা যায় -তাজিয়াকাটা রেড ক্রিসেন্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নুরুল ইসলামকে সহকারী শিক্ষক, মিটাকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লীলা প্রভা দে সহকারী শিক্ষক, উত্তর রাজঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কামাল হোছাইনকে সহকারী শিক্ষক, মগরিয়া কাটা প্রাথমিক বিদ্যলয়ের সহাকারি শিক্ষক শাহ আলম, পুঠিবিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আহম্মদ উল্লাহকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু উল্লেখিত নামের কোন শিক্ষকই অফিস আদেশমতে নির্দিষ্ট স্কুল ও পদে যোগদান না করে ভুয়া আদেশ তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করে বসে ৷

ভুয়া আদেশের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় -২০১৪সালের ১৩ মার্চ আরেকটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে দেখা যায়, তাজিয়াকআটা রেড ক্রিসেন্ট স্কুলে নুরুল ইসলাম মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আরমান প্রধান শিক্ষক, মিটাকাটা প্রা. বি. লীলা প্রভা দে প্রধান শিক্ষক, উ. রাজঘাট স্কুলে কামাল হোছাইন প্রধান শিক্ষক, চরপাড়া রেড ক্রিসেন্ট স্কুলে ছাবেকুন্নাহারকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

উক্ত আদেশে আহমদ উল্লাহর কোন ধরনের নাম না থাকা সত্বেও তিনি পুঠিবিলা স্কুলে যোগদান না করে চরপাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করে আছে। এবং অনুরূপভাবে কামাল হোছাইন, নুরুল ইসলাম, লীলা  প্রভা দে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান না করে প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করে আছে। অদ্যাবধি তারা প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছে। জানাগেছে -ভুয়া আদেশ মতে উক্ত শিক্ষকগণ অদ্যাবধি প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন ভাতাদি উত্তোলন করে আসছে। উক্ত ভুয়া অফিস আদেশ তৈরিতে সহযোগিতা করেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার শহিদুল্লাহ ৷

অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাদের বরাত দিয়ে শিক্ষক নেতা মিঠুন ভট্টাচার্য ও সাইদ আল করিম বলেন -এমন একটি বিষয় সম্পর্কে আমরা কিছুটা অবগত আছি। এ নিয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা আছে। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা আছে সেহেতু তারা বক্তব্য দিতে পারে না। মহেশখালীর শিক্ষা অফিসার চাইলে তাদের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন বলে জানান এ দুই শিক্ষক নেতা। 

এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বর্তমান শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু আব্দুল্লাহ মোঃ নোমান বলেন -ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক বিষয়টির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোপূর্বে অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা শিক্ষা অফিস হতে রামু উপজেলার শিক্ষা অফিসার গৌর চন্দ্র দে কে তদন্তভার দেওয়া হলেও অদ্যাবধি তদন্ত রিপোর্ট না আসাতে পূর্বের নিয়মে বেতন ভাতা চালিয়ে যাচ্ছে ৷ অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অদ্যাবধি উত্তোলন করা বেতন ভাতাদি সরকারী কোষাগারে জমা করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷

No comments

Powered by Blogger.