মহেশখালীতে পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন আত্মসমর্পণকারী পরিবারের


হোবাইব সজীব।।

মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন থেকে অাত্মসমর্পণকৃতদের মধ্যে অনেকে বাড়ি ফিরে এলেও জামিনে ফিরে আসা তৎকালীন জমিদার খসরু গোষ্ঠীর লোকজন এখনও  ফিরতে পারেনি নিজেদের বাড়িতে। ফলে তাদের এখন বিভিন্ন স্থানে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। -এমন অভিযোগ করে নিজ ভিটে-মাটিতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে খসরু গোষ্ঠীর লোকজন।

শনিবার(২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কালারমারছড়ায় উপকূলীয় সাংবাদিকদের এক অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলফেরত আত্মসমর্পণকারী আয়ুব আলী, মো: সাদ্দাম হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিপক্ষের লোকজনের কালো থাবায় খসরু গোষ্ঠীর অর্ধশতাধিক বাড়ী ঘরের চিহ্ন নেই। আমরা এসব পরিবারের লোকজন এলাকার বাইরে মানবতায় জীবন যাপন করে আসছি। অভাবের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া বহু ভাই-বোন নিরূপায় হয়ে স্বল্প বেতনে চাকরি করে যাচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে বহুজন অকালে জীবন হারিয়েছে। এ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাংবাদিক আকরাম হোছাইনের মধ্যস্থতায় আমিসহ অামার গোষ্টির ১০/১৫ জন লোক গত ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর কালারমারছড়া বাজার মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের হাতে অাত্মসমর্পণ করি। ঐ অাত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে সর্বমোট ৯৬ জন অাত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের আই জি পি ড: জাবেদ পাটোয়ারী, সাংসদ আলহাজ্ব অাশেক উল্লাহ রফিক, সাংসদ সাইমুন সরওয়ার কমল, কক্সবাজার জেলা অাওয়ামীলীগের সভাপতি বর্তমানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফাসহ অনেকে।”

অামরা কয়েকজন জামিনে অাসার পর পরিবার পরিজন নিয়ে অামাদের ভিটে বাড়িতে বসবাস করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু অামরা ঘর বাঁধার জন্য গেলে স্থানীয় থানা প্রশাসনের অসহযোগীতার কারণে ঘরের মালামাল ফেলে চলে অাসি। অন্ততপক্ষে ৫ লাখ টাকার গাছ,বাঁশ ও টিন পচে-গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অামরা স্থানীয় ওসি আব্দুল হাইয়ের সহযোগীতা চাইলে কোন ধরনের নিরপত্তা না দিয়ে অামাদের প্রতিপক্ষ স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। ওসি ওই জনপ্রতিনিধি ইন্ধনে আমাদের বাড়ি ফিরতে বাঁধাগ্রস্ত করতেছেন বলে আমরা মনে করি। আমাদেরকে আশ্বস্থ করা হয়েছিল স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে নিজ এলাকায় ঘর বাঁধতে পারব। কিন্তু আজ-কাল বলতে বলতে কালক্ষেপণ করে বাঁধাগ্রস্ত করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আত্মসমর্পণকৃত পরিবারের সদস্যদের খউস্বর গোষ্ঠীর পরিচিত মুখ মরহুম ছিদ্দিক মাতাব্বরের পুত্র গিয়াস উদ্দীন ও নাজমুল হোসাইন। তারাও সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, অামাদের জীবনযাত্রা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। অামাদের অায়ের উৎস প্রতিপক্ষের হাতে। অামরা স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় পরিবার পরিজন নিয়ে নিজ ভিটায় বসবাস করতে চাই। সংঘাত চাই না। শান্তি চাই। অামরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তেক্ষেপ কামনা করছি।”

মন্তব্য

আগের পোস্ট পরের পোস্ট