Advertisement


মহেশখালীতে ভগ্নদশায় পড়া প্রিজম স্কুলের দায়িত্ব নিলেন ফয়সাল আমিন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।। আর্থিক সংকটে স্বভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে ভগ্নদশায় পড়া একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন মহেশখালীতে ইতিবাচক কাজের জন্য পরিচিত সমাজসেবক ফয়সাল আমিন। বৃহস্পতিবার তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন এবং সমস্যা ও সমাধানে করণীয় বিষয়ে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জানা গেছে, মহেশখালী পৌরসভার আওতাধীন দক্ষিণ পুটিবিলা প্রিজম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ দুই দশকের পথচলায় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে চলা এই বিদ্যালয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো ও আর্থিক সংকটে পড়ে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে যায়। বিশেষ করে ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান।

জানা গেছে, এমন পটভূমিতে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রাক্কালে ফয়সাল আমিন বিদ্যালয়টির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, শিক্ষা উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেন। এর ফলে দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান পুনরায় শুরু হচ্ছে। তার সহায়তায় নতুন বই ও শিক্ষা সামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর মতে, এই উদ্যোগ দক্ষিণ পুটিবিলা এলাকায় শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এর আগে বিদ্যালয়ের দুরবস্থার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মহেশখালীর সন্তান, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ফয়সাল আমিন নিজ তহবিল থেকে বিদ্যালয়টি পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যালয়টিকে স্বাভাবিক শিক্ষাক্রমে ফেরানোর উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় ফয়সাল আমিন বলেন, এলাকাবাসীসহ সবার সহযোগিতায় বিদ্যালয়টিকে একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চান তিনি। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টি নিজ সক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হলে, তিনি যুক্ত না থাকলেও তাতে তার কোনো আক্ষেপ থাকবে না।

সব খবরকে তিনি জানান, বিদ্যালয়ে একজন অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাছাড়া সব শিক্ষকের বেতন-ভাতা, প্রায় দুইশত শিক্ষার্থীর জন্য নতুন পোশাক (ইউনিফর্ম) ও নিয়মিত শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ফয়সাল আমিন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে এলাকাবাসী তাকে ফুলেল স্বাগত জানান। এলাকার সচেতন ব্যক্তিবর্গের সাথে সার্বিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন।