বার্তা পরিবেশক।। মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সৌদি প্রবাসীর পরিবারের ওপর একই দিনে দুই দফা সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশের উপস্থিতিতেও দ্বিতীয় দফা হামলার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের নতুন বাজার কাজী অফিস-সংলগ্ন এলাকায় প্রথম দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি প্রবাসী আজিজের পরিবারের অভিযোগ, তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে আপন চাচা নেচারুল হক ও কোহিনূরের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগীরা নিজেদের ন্যায্য হিস্যা দাবি করলে অভিযুক্তরা তা বুঝিয়ে দিতে ক্রমাগত অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন।
এরই জেরে শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত দুই চাচা স্থানীয় প্রভাবশালী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত নুরুল হুদাকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রবিউল হাসান, নাইমুল ইসলাম জয় ও বিশালসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবাসীর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এ সময় হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
এদিকে, প্রথম দফার হামলার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা রাতে মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন এবং আইনি সহায়তা চান। পরিবারের দাবি, পুলিশ ক্যাম্প থেকে দুজন কনস্টেবল নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ানা হন। কিন্তু পথিমধ্যেই পুলিশের উপস্থিতিতে হামলাকারীরা আবারও তাদের ওপর দ্বিতীয় দফায় চড়াও হয় এবং মারধর করে। পুলিশের কাছে বিচার চাইতে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েই এই দ্বিতীয় দফার হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
এ ঘটনার পর থেকে ওই অসহায় পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছে। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেচারুল হক ও কোহিনূরসহ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
