মাতারবাড়িতে আ'লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউন প্রতিযোগিতা, উত্তপ্ত পরিস্থিতি


এ.এম হোবাইব সজীব।।
উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চলছে শোডাউনের প্রতিযোগীতা। একজন আরেকজনকে কোনভাবেই ছাড় দেবেনা এমন ভাব নিয়ে নেমে পড়েছেন গনসংযোগে। ইতোমধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে উপজেলার মাতারবাড়ী  ইউনিয়নে। যার ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করার আশংকা রয়েছে। তাই ভোটারদের কেন্দ্র মূখী করতে জনপ্রিয়দের মনোনয়ন দেওয়ার দাবী তৃণমুল নেতাকর্মীদের। কেউ কাউকে ছাড় দেবে না এমন মনোভাব নিয়ে মাতারবাড়ী ইউনিয়নে চলছে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শো-ডাউন। তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা গনসংযোগে নেমে পড়ায় উত্তেজনা বাড়ছে ইউনিয়ন পর্যায়ে। অনেকেই ঘোষণা দিচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন।

আওয়ামী লীগের ঘোষণা অনুযায়ী বিগত সময়ে যারা দলের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন তারা কেউ মনোনয়ন পাবেন না। এছাড়া দলের মনোনয়ন পেতে প্রার্থীকে অবশ্যই দলের দায়িত্বশীল হতে হবে। এছাড়া পারিবারের রাজনৈতিক বৃত্তান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে। এরপরও দলের কিছু নেতাকর্মীদের মনোনয়নের জন্য শো-ডাউন প্রতিযোগীতা শংকিত হয়ে উঠেছেন তৃণমুল নেতাকর্মীরা। অনেকেই নৌকা প্রতীক পেলেই নির্বাচিত হবেন এমন আশা নিয়েই নেমে পড়েছেন গনসংযোগে।

জানাগেছে, সরকারের মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ীতে হতে যাওয়ায় এটি সরকারের পেস্টিস ইস্যুর আসন হয়ে দাঁড়িয়ে। সে হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতারা সরকারে মেগা প্রকল্পে ব্যবসা বাণিজ্য প্রসার করতে নৌকার টিকেট নিয়ে নির্বাচিত হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে ভোটাররা ভোট দিবে প্রতীক দেখে নই জনপ্রিয় প্রার্থী দেখে এমন কথা শোনা যাচ্ছে ভোটার মাঠে। হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে ভোটাররা ভোট দিবে প্রতীক দেখে নই জনপ্রিয় প্রার্থী দেখে এমন কথা শোনা যাচ্ছে ভোটার মাঠে। হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে ভোটাররা ভোট দিবে প্রতীক দেখে নই জনপ্রিয় প্রার্থী দেখে এমন কথা শোনা যাচ্ছে ভোটার মাঠে।

মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কিছু নেতার এমন ভাবের কারণে সাধারণ মানুষ ভোট কেন্দ্রে আসতে নিরুৎসাহিত হয়। আগ্রহ কমে যায় ভোটের প্রতি। এটি সম্পুর্ণ অগনতান্তিক মনোভাব। এতে সরকারও বেকায়দায় পড়ে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে দলের নেতাকর্মীদের মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে যেভাবে শো-ডাউনের প্রতিযোগীতা চলছে তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। যারা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তাঁরা মুলত কতটুকু জনপ্রিয় নিজেই উপলব্ধি করতে পারেন। জনপ্রিয়তা না থাকলে প্রতীক পেলেই যে নির্বাচিত হবেন এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। তাই দলের মনোনয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তাকে অগ্রাধিকার দিলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতনা। মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও অনেক কমে যেত।

মাতারবাড়ীর সাবেক এক মেম্বার জানিয়েছেন, কেন্দ্র বিমুখ ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে জনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়নের বিকল্প নেই। যে দলেরই হোক না কেন প্রার্থী জনপ্রিয় হলে ভোটারদের মাঝে আগ্রহ বাড়ে। অযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিলে সাধারণ মানুষের মাঝে শংকা সৃস্টি হয়। যেভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে এতে দলের তৃণমুল পর্যায়ে বিভাজন অনিবার্য হয়ে উঠবে।  যেভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একজন আরেকজনকে ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে গনসংযোগ করে যাচ্ছেন পরবর্তিতে এই বিভাজন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

 মাতারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মাতারবাড়িতে মহা আয়োজনের মাধ্যমে সম্ভাব্য ৬ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে ৫ থেকে ৬ জন শােডাউন করেছেন। প্রতিটি শো-ডাউনে ১০/১২ লাখ টাকা করে খরচ করেছেন এমন তথ্য রয়েছে। তাই এখনই বিষয়টি শীর্ষনেতাদের নজরে আনা প্রয়োজন।

ইতোমধ্যে মাতারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ৬ ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একনেতা আরেক নেতার সমালোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। চেয়ারম্যান  পদে মনোনয়নের বিষয়ে এখনও কোন নির্দেশনা আসেনি। এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে আমরা সেভাবেই কাজ করব। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন। তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন আমরা সেভাবে এগিয়ে যাব। 

মন্তব্য

আগের পোস্ট পরের পোস্ট