আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কিশোরগ্যাং দমন জরুরি - মহেশখালীর সব খবর

শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কিশোরগ্যাং দমন জরুরি


।। মুহম্মদ রুহুল আমিন।।

সমাজ, সামাজিকতা এবং সমাজকর্ম এসবের ওপর মানুষের কমবেশি ধারণা থাকতে হয়। নইলে সামাজিক জীব হিসেবে শতভাগ মেনে নেওয়া যায় না। যে কারণে মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক অনেক বড়। আজকাল দেখা যায় ধর্মীয় উগ্রবাদ, রাজনৈতিক সহিংসতা এসবের ওপর ভর করে সামাজিক সম্পর্ককে আমরা এড়িয়ে চলছি। এটি শুধুই জীবমূলক আচরণ। সামাজিক মানসিকতার হতে হলে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কখনও অস্বীকার করা যায় না।একদিকে আমরা দাবি করছি, আমরা সামাজিক জীব। অন্যদিকে আচরণ করছি কেবল প্রাণির মতো। যা সামাজিক ভারসাম্য তো বিনষ্ট করছেই এমনকি সমাজে অসম ও অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

এমনিতেই আমাদের সমাজ বলতে যেটি প্রচলিত সেটি মূলত অসমাজ। অসমাজে সামাজিক জীব টিকে থাকা কঠিন ও নির্মম। এই কঠিন ও নির্মম বাস্তবতার ফলে আমরা অসম, অনভিপ্রেত ও কুৎসিত প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছি। যেটির ফলাফল মানবসভ্যতার জন্য মোটেও সহায়ক নয়। অসমাজকে সমাজ বলে চাপিয়ে দেওয়ার খেসারত যে শুধু আজকেই দিতে হবে তেমন না, এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে আজীবন খেসারত দিতে হবে।বলা যায়, আগাম দিনের খেসারত হবে আরও ভয়াবহ। কেননা পশু তার পাশবিকত্ব বিলাবে, মানুষরূপী অমানুষেরা মানুষের ভান ধরে পশুদের পাশবিকত্বকে আরও শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলবে। যা মানবসভ্যতার জন্য রীতিমতো হুমকি হয়ে থাকবে। তাহলে আমরা এই অবস্থা থেকে বেরোই কিভাবে?
এককথায় এটির সহজ উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। পরিবার থেকেই এসব নির্মূলের প্রচেষ্টা থাকতে হবে। অথচ পরিবার সেসব ভূমিকা থেকে বেশ দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে, অসমাজ অসমাজই রয়ে যাচ্ছে। এই অসমাজকে সমাজে রূপান্তর করা অতটা সহজ কাজ না যতটা আমরা ভাবছি। কেননা অসমাজচারা রূপিত হচ্ছে প্রতিটি মুহূর্তে। ওসব চারাগাছ গান্ধীপন্থায় নির্মূল করা যাবে না, বিপ্লবী ধারায় আসতে হবে। এই বিপ্লবী ধারার প্রথম ধাপ হচ্ছে দুর্নীতিবাজ বয়কট করা, মাদকব্যবসায়ীদের বয়কট করা। বর্তমান সমাজে তো দুর্নীতিবাজদের তোয়াক্কা না করে পারে না, আসন দিয়ে বসে যে কোনো মঞ্চে। তাহলে অসমাজ সমাজ হবে কি করে?

সমাজ চলে দুষ্টুচক্রের ইশারায়। দারিদ্র‍্যের দুষ্টুচক্রের মত সমাজ এখন সমাজের দুষ্টুচক্রের ফাঁদে বন্দী। সহজ সরল মানুষেরা অতশত বুঝে না, তাই কোনো না কোনো মতে ফাঁদে আঁটকে যায়। জাতিকে এই অপন্থা থেকে উত্তরণের জন্য সমাজবিজ্ঞানীদের আরও এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সমাজবিজ্ঞানী হাতেগুণা কয়েকজন। কিন্তু তাদের সমর্থন করেন এ সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। এই গোষ্ঠীকে আগেভাগে বুঝাতে হবে। এজন্য সভাসেমিনারের বিকল্প নেই। কিন্তু সভাসেমিনারেও খরচের একটা ব্যাপার থাকে। এই ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়েই সমাজের অসৎ শ্রেণি  সুযোগ পেয়ে বসে। এই শ্রেণিকে পরাজিত করতে না পারলে পুরো সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। বিশেষত তরুণ প্রজন্ম দিকভ্রান্ত হয়ে কিশোরগ্যাং-এ রূপায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি মহেশখালীতেও কিশোরগ্যাং উপদ্রবের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এখবর এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা চরম পর্যায়ে যাওয়ার আভাস দিচ্ছে। সময় ও সুযোগ থাকতে অভিভাবক ও প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। এমনিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাতে কোমলমতিরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় যদি কিশোরগ্যাংয়ে একবার পা বাড়ায়; সমাজ ও জাতির সর্বনাশ ডেকে আনবে। যেকারণে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চলাফেরায় নজর বাড়ানো উচিত। মনে রাখতে হবে প্রজন্ম রক্ষা পেলে দেশ রক্ষা পাবে। কাজেই কিশোরগ্যাং দমনের  প্রকারান্ত নাম সমাজ রক্ষার সমান।

লেখকঃ মহেশখালীর সন্তান ও শিক্ষক। 

No comments

Powered by Blogger.