আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

কক্সবাজারের গণধর্ষণের মূলহোতা সেই আশিক মাদারিপুরে গ্রেফতার - মহেশখালীর সব খবর

কক্সবাজারের গণধর্ষণের মূলহোতা সেই আশিক মাদারিপুরে গ্রেফতার


দৈনিক যুগান্তর অনলাইন।।
সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মূলহোতা ও প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম আশিককে মাদারীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

এর আগে এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। তাদের মধ্যে কেউ এজাহারভুক্ত আসামি নয়। পরে রাতে পর্যটক ধর্ষণকাণ্ডের মূলহোতা আশিককে গ্রেফতার করা হলো।

এদিকে সকালে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছিলেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান। পরে রোববার দুপুর ১টার দিকে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনজনকে গ্রেফতার করার তথ্য জানায় টুরিস্ট পুলিশ।

আটককৃতদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন চট্রগ্রাম বিভাগের ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মোহাং মুসলিম। তিনি বলেন, পর্যটক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় মামলার এজাহারে যে তিনজন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- শহরের বাহারছড়া এলাকার রেজাউল করিম প্রকাশ শাহাব উদ্দিন, মেহেদী হাসান ও চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা এলাকার মামুনুর রশিদ।

ডিআইজি মুসলিম বলেন, ধর্ষণের মূলহোতা ও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের ধরার জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম পৃথকভাবে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে।

ডিআইজির দাবি, গত শুক্রবার বিকালে কক্সবাজার সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজিনের আদালতে ভুক্তভোগি ও ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ যে জবানবন্দি দিয়েছেন সেখানে এই তিন জনের নাম রয়েছে।

এদিকে গৃহবধূর ভাষ্যমতে, গত বুধবার বিকালে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে স্বামী সন্তান নিয়ে তারা বেড়াতে যান। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার ৮ মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজি অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় ওই নারীকে তুলে নেয় তিন যুবক। পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তিনজন।

এরপর তাকে নেওয়া হয় কলাতলীতে জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে। সেখানে ইয়াবা সেবনের পর আরেক দফা তাকে ধর্ষণ করে ওই তিন যুবক। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পরে র‌্যাব এসে তাকে উদ্ধার করে।

চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণের ঘটনায় গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার সদর থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভিকটিমের স্বামী।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- আশিকুর রহমান ও তার তিন সহযোগী ইস্রাফিল খোদা ওরফে জয় ও মেহেদী হাসান ওরফে বাবু এবং হোটেল ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন।

টুরিস্ট পুলিশকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে জিয়া গেস্ট ইনের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এদের মধ্যে প্রধান আসামি আশিকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ইয়াবা অস্ত্রসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। ইস্রাফিল খোদা জয়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.