ঘাটের ইজারাদার, চালক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা আনুমানিক ১২টার কিছু সময় আগে মহেশখালী ঘাট থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ৮৫ নম্বর ক্রমিকের একটি স্পিডবোট ছেড়ে যায়। স্পিডবোটটির চালক ছিলেন মো. হায়দার। বোটে মোট ৯ জন যাত্রী ছিলেন।
যাত্রাপথে বাঁকখালী নদীর মোহনায় মাঝের চর এলাকায় পৌঁছালে ডুবুচরে আটকে স্পিডবোটটির ইঞ্জিনের পাখায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে নৌযানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ভাসতে থাকে। ঠিক সেই সময় কক্সবাজারের ৬ নম্বর ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ৪৫ নম্বর ক্রমিকের আরেকটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী স্পিডবোট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভাসমান স্পিডবোটটির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ৮৫ নম্বর ক্রমিকের স্পিডবোটটি যাত্রীসহ উল্টে যায়।
কক্সবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে আসা স্পিডবোটটির চালক ছিলেন মোহাম্মদ রাশেদ। জানা গেছে, তিনি সম্প্রতি নতুন চালক হিসেবে স্পিডবোট পরিচালনায় যোগ দিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর নদীতে থাকা জেলে নৌকা ও অন্যান্য স্পিডবোট দ্রুত এগিয়ে এসে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম-পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি হাসপাতাল সূত্র। অন্যরা বিভিন্ন ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র বরাত দিয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে, বোটে থাকা এক যাত্রী মিসিং (নিখোঁজ) আছে। তবে নিহত ও নিখোঁজের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌরুটে অতিরিক্ত গতি, অভিজ্ঞতাহীন চালক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা অবিলম্বে নৌযান চলাচলে কঠোর তদারকি ও নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
