মহেশখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চবি এলামনাই মিলনমেলা ২০২৬


প্রেস বিজ্ঞপ্তি।। উৎসবমুখর পরিবেশ, প্রাণের উচ্ছ্বাস এবং নস্টালজিক আবহে মহেশখালীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই মিলনমেলা ২০২৬। মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মহেশখালীর নানা প্রান্ত থেকে আগত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

শনিবার সকাল ৯:০০ টায় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, স্মৃতি ও গৌরবকে ধারণ করে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রতীকী উপস্থাপনা নিয়ে মহেশখালী পৌরসভার সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। র‍্যালি শেষে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ মুহাম্মদ নুরুল হুদা, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন জনাব মিহির রঞ্জন দত্ত এবং পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন অধ্যাপক সুমেত শ্রমণ। 

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহিবউল্যাহ ছিদ্দিকী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিলনমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি প্রফেসর ড. বদিউল আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন এলামনাই মিলনমেলা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আওলাদ হোসেন সাগর। তিনি এলামনাই মিলনমেলার আয়োজন, উদ্দেশ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এরপর অতিথিগণ এবং প্রকাশনা সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে 'স্মৃতি-সংযোগ' শীর্ষক একটি মেম্বার ডিরেক্টরির মোড়ক উন্মোচিত হয়। মেম্বার ডিরেক্টরির সম্পাদক জনাব মো: ফরিদুল আলম এই প্রকাশনায় সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

অত:পর “মহেশখালীর উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব জনাব সরওয়ার কামাল। উপস্থাপনায় মহেশখালীর ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের ওপর আলোকপাত করা হয়।

চবি এলামনাই মিলনমেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে মহেশখালীর মাটিতে পুনর্নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির আইকনিক শাটল ট্রেন, চবি তোরণ এবং রেলস্টেশনের আলোকচিত্র ও প্রতিরূপ দিয়ে পুরো ভেন্যু সাজানো হয়। ফলে অংশগ্রহণকারীরা যেন ক্ষণিকের জন্য ফিরে যান তাঁদের প্রিয় ক্যাম্পাসের স্মৃতিময় দিনগুলোতে। এলামনাসগণ অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত বদনে এসব স্মৃতিফলক নিয়ে ছবি তোলেন।

আলোচনা পর্বে স্মৃতিচারণ করেন সিনিয়র এলামনাই জনাব দীপক রঞ্জন পাল, এডভোকেট মোস্তাক আহমদ, অধ্যাপক আবুল কালাম, জনাব সৈয়দ লকিতুল্লাহ, অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম, প্রফেসর সুকুমার দত্ত, এডভোকেট সিরাজুল হক রানা, অধ্যাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন, অধ্যাপক মকবুল আহমেদ, অধ্যাপক কামরুন নাহার, চুসাম সভাপতি মোহাম্মদ পারভেজ আলম, চবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসহাক, অতিরিক্ত জেলা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ রেজাউল করিম, অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল সোহাগ, এডভোকেট কবির হোসাইন, মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি ড. বদিউল আলম, মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এবং সভাপতি ও বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের মান্যবর ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ ছিদ্দিকী। 

তারা তাঁদের ছাত্রজীবনের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার নানা দিক। সে সাথে এলামনাইয়ের মতো একটি আলোকিত প্লাটফর্ম কীভাবে মহেশখালী ও মহেশখালীর মানুষের মঙ্গলার্থে তাদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাতে পারে তার সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান অতিথি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, এমপি, মহেশখালীর উন্নয়ন, স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষা, লবণের বাজার মূল্য নিশ্চিত করা, প্যারাবন রক্ষা, উন্নত মানের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ দেওয়া এবং একটি নির্দলীয় আলোকিত প্লাটফর্ম হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, মহেশখালী গঠনের প্রত্যাশা রেখে বক্তব্য রাখেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে একটি কমিটির মাধ্যমে চবি এলামনাই প্লাটফর্ম অব্যাহত রাখার জন্য মতামত প্রত্যাশা করলে উপস্থিত এলামনাসগণ হাত তুলে প্রস্তাবে সম্মতি জানান। তিনি বলেন, মহেশখালীর ভাবমূর্তি বদলে গেছে। এখন সারাদেশে মহেশখালীকে সম্মানের সাথে দেখা হচ্ছে, উন্নয়ন সম্ভাবনার কারণে। তিনি প্রয়াত এলামনাসগণকে স্মরণ করে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং এই আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

মিলনমেলায় ১৯৭১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সেশনের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, এতে প্রায় ৬০০ জন এলামনাই উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজের পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কক্সবাজারের জনপ্রিয় সংগীতদল অঁলা ব্যান্ড, আলভী, সাদাকালো ব্যান্ড, চাটগাঁইয়া গান, কাওয়ালিসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় সংগীত পরিবেশন করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, মহেশখালী যেন একটি আবেগ, একটি ঐতিহ্য এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান এক বন্ধনের নাম। এই এলামনাই মিলনমেলা সেই বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা ও সম্প্রীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীগণ।