বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোররাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনূছখালী মৌজায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহতদের উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইউনূছখালী মৌজার বিএস ৪২ নম্বর খতিয়ানের ৩২৯ দাগের ২৩ কড়া জমিটি ২০২৪ সালে যৌথভাবে ক্রয় করেন স্থানীয় মৃত রশিদ আহমদের ছেলে মো. একরামুল্লাহ (৪৩) ও মোস্তফা কামাল। এরপর থেকে তাঁরা সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে একটি নারকেল বাগান গড়ে তোলেন। কিন্তু গত ৮ জুলাই একই এলাকার মৃত বজলুল আহমদের ছেলে আক্তার হোসেন (৪৭) উক্ত জমি দখলের উদ্দেশ্যে বাগানের গাছপালা উপড়ে ফেলে একরামুল্লাহকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে গত ১৪ জুলাই মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৬২১) করেন একরামুল্লাহ।
অভিযোগ রয়েছে, থানায় জিডি করার মাত্র দুই দিনের মাথায় আইনি কোনো তোয়াক্কা না করে বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রতিপক্ষ আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই জমিতে আকস্মিক প্রবেশ করে। হামলাকারীরা প্রথমে সীমানা প্রাচীরের টিনের বেড়া কেটে ও উপড়ে ফেলে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে।
এসময় ভাঙচুরের শব্দ শুনে একরামুল্লাহ, তাঁর ছেলে মো. শাহিন (১৯), ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী তাসলিমা জান্নাত (৩৪) এবং প্রতিবেশী রুবেল বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। এতে আক্তার হোসেন ধারালো দা দিয়ে একরামুল্লাহর মাথায় কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন, ফলে তাঁর বাম হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। কফিল উল্লাহ নামের অপর এক হামলাকারী লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে শাহিনের বাম পা ভেঙে দেন বলে অভিযোগ। এছাড়া দেলোয়ার হোসেন ও তাহেরা বেগমের লাঠি ও রডের আঘাতে তাসলিমা ও রুবেল গুরুতর আহত হন। সিসিটিভি ফুটেজে ধারালো অস্ত্র ও রড নিয়ে এই তাণ্ডবের দৃশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট দেখা গেছে।
আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহত চারজনকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী মো. একরামুল্লাহ বাদী হয়ে আক্তার হোসেনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে বিবাদী করে মহেশখালী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সুলতান জানান, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
