ঘটিভাঙ্গায় সরকারি জমি দখল করে নয়নের মাদকের আস্তানা, অপরাধের সূতিকাগার

নিজস্ব প্রতিবেদক◾মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙা প্রবেশদ্বার ডেম্বুনি পাড়ার শুরুতে সরকারি জমি জবরদখল করে গড়ে উঠেছে মগকাটার কাছিম আলির পুত্র নয়নের বাড়ি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি একটি বাসস্থান মনে হলেও, মূলত এটি পুরো ঘটিভাঙা এলাকার অপরাধের প্রধান সূতিকাগার। এই আস্তানাকে কেন্দ্র করে দিনরাত চলছে চোলাই মদ, ইয়াবা ও গাঁজার রমরমা কারবার, যা বর্তমানে মহেশখালীর বিভিন্ন অঞ্চলের পলাতক আসামি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রধান নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নয়নের এই মাদক সাম্রাজ্যের ওপর ভর করেই এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক ভয়ংকর অপরাধ নেটওয়ার্ক। এই সিন্ডিকেটে নয়নের সাথে যোগ দিয়েছে ছালেহ আহমদের পুত্র সন্ত্রাসী জাহেদ এবং আলোচিত মৌলভী জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার শীর্ষ আসামি 'বামহাতি জাহাঙ্গীর'। এই ত্রয়ীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ১৫-২০ জনের অস্ত্রধারী বাহিনী পুরো এলাকায় চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। মোটা অংকের বিনিময়ে ভাড়াটে হিসেবে চিংড়ি ঘের দখল, সরকারি প্যারাবন নিধন, সমুদ্রে দস্যুতা এবং সাধারণ মাদক ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা তোলাই এই বাহিনীর মূল কাজ।

এই অপরাধ চক্রের নিজস্ব একটি শক্তিশালী সোর্স নেটওয়ার্ক রয়েছে, যার অন্যতম প্রধান তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করে মেকানিক আনচার। থানা থেকে পুলিশ বের হওয়া মাত্রই সোর্সদের মাধ্যমে ১ মিনিটে সেই খবর পৌঁছে যায় নয়নের আস্তানায়। ফলে ঘটিভাঙা অভিমুখী কোনো পর্যটক, প্রবাসী বা সাধারণ ব্যবসায়ীকে দেখলেই নয়নের বাড়ি থেকে বের হয়ে মাত্র ১ মিনিটে প্রধান সড়কে উঠে ছিনতাই চালায় চক্রটি। সম্প্রতি দুবাই প্রবাসীদের জিম্মি করে নগদ ১ লাখ টাকা ও আইফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইয়ের ঘটনাও এই আস্তানা থেকেই পরিচালিত হয়েছে।

এমনকি এই আস্তানাকে ঘিরে অপরাধীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি নয়নের এই মাদক আস্তানায় টাকা ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৭ জন গুরুতর আহত হন। 

চিহ্নিত অপরাধীদের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ঘটিভাঙার সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। ঘটিভাঙাকে এই জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করতে এবং অপরাধের মূল কেন্দ্রবিন্দু নয়নের এই মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।