বার্তা পরিবেশক।। কক্সবাজারের মহেশখালীর ধলঘাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি এবং পতিত স্বৈরাচার সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত সাহাব উদ্দিন শান্তের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ছাত্র-জনতার দাবি, যাঁর বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করা থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ত্রাসের রাজনীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে এমন একটি রাষ্ট্রীয় ও আবেগের অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত করা জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের সাথে চরম তামাশার শামিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহাব উদ্দিন শান্ত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া স্থানীয় স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান তারেকের নিকটাত্মীয় হওয়ার সুবাদে বিগত সময়ে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছিলেন। পাশাপাশি কক্সবাজার ভূমি অফিসের একজন চিহ্নিত দালাল হিসেবেও তিনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিত বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
একাধিক ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি থাকাকালীন সাহাব উদ্দিন শান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে হয়রানির সাথেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জুলাই অভ্যুত্থান হলো দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের এক রক্তস্নাত স্মারক। এমন একটি পবিত্র ও রাষ্ট্রীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করায় শহীদদের চেতনার সাথে বেইমানি করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যে ব্যক্তি জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করল, স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে সুবিধা নিল, আজ সে কীভাবে শহীদদের স্মরণসভায় বসে থাকে? এটি আমাদের জন্য চরম লজ্জার। প্রশাসনের উচিত ছিল অতিথি নির্বাচনে আরও সতর্ক হওয়া।"
ভবিষ্যতে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় ও স্পর্শকাতর অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে অতিথি নির্বাচনে প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এদিকে, স্থানীয়দের উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাহাব উদ্দিন শান্তের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
