গভীর রাতে ওসির নেতৃত্বে অভিযান: শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহেদ গ্রেফতার, নয়নের মাদকের আস্তানায় চলছে অভিযান


নিজস্ব প্রতিবেদক◾
মহেশখালী থানা পুলিশের এক দুর্ধর্ষ ও সফল অভিযানে কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙা এলাকার মোস্ট ওয়ান্টেড শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অপরাধ সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা জাহেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটু আগর (গভীর রাতে) মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতানের সরাসরি নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটিভাঙা এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালায় এবং এ অভিযানে জাহেদ গ্রেফতার হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, অপরাধের মূল সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত নয়নের সেই আলোচিত মাদকের আস্তানায় বর্তমানে পুলিশের চিরুনি অভিযান চলছে। -নিশ্চিত করেছেন ওসি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ঘটিভাঙা এলাকায় সরকারি জমি দখল, প্যারাবন নিধন, সমুদ্রে দস্যুতা এবং তাজিয়াকাটা-ঘটিভাঙা সড়কে একের পর এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল জাহেদ ও তার বাহিনী। বিশেষ করে, সম্প্রতি দুবাই প্রবাসীদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও আইফোন ছিনতাই এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে ও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করতে 'আর্মির পোশাক' পরে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তাকে গ্রেফতারে জাল বিছায় পুলিশ।

গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি আব্দুস সুলতানের নেতৃত্বে পুলিশের ভারী একটি দল ঘটিভাঙার কুখ্যাত অপরাধ জোনে অতর্কিত হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জাহেদ ও তার সহযোগীরা পালানোর চেষ্টা করলেও চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে সুকৌশলে শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহেদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

জাহেদ গ্রেফতারের পর পরই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটিভাঙা প্রবেশদ্বার ডেম্বুনি পাড়ার শুরুতে অবস্থিত মগকাটার কাছিম আলির পুত্র কুখ্যাত মাদক কারবারি নয়নের আস্তানায় অভিযান শুরু করা হয়। সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা এই বাড়িতেই দিনরাত চোলাই মদ, ইয়াবা ও গাঁজার আসর বসতো এবং এটিই ছিল 'বামহাতি জাহাঙ্গীর' ও জাহেদ বাহিনীর মতো অস্ত্রধারী অপরাধীদের মূল আশ্রয়স্থল। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নয়নের মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে এবং পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আস্তানার চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ভেতরে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ওসি আব্দুস সুলতান শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহেদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "কোনো প্রকার অপরাধ ও অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রবাসীদের ওপর ছিনতাই এবং সেনাবাহিনীর পোশাকের অবমাননাকারী সন্ত্রাসী জাহেদকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে অপরাধের মূল আস্তানাগুলোতে আমাদের অভিযান চলছে। ঘটিভাঙার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পুরো সিন্ডিকেট নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

এদিকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জাহেদ গ্রেফতার এবং নয়নের মাদকের আস্তানায় পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানের খবরে ঘটিভাঙা ও কুতুবজোমের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ চক্রের কাছে জিম্মি থাকা এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা এই সফল অভিযানের জন্য মহেশখালী থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং নয়ন ও বামহাতি জাহাঙ্গীরসহ চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।