মেয়েটির পড়ালেখার টেবিলে বসে তার পড়ালেখায় আগ্রহের কথা শুনছেন ইউএনও

মহেশখালী পৌর সদরের দরিদ্র পিড়িত এক পরিবারের স্কুল ঝরে পড়া কিশোরীকে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে নতুন ভাবে স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন ইউএনও। তড়িঘড়ি করে গোপরে মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে একটি এনজিওর কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের একটি ইউনিট গতকাল ১৭ জানুয়ারি বিকেলে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে এই বিয়ে বন্ধ করেন। এসময় প্রশাসনের তরফ থেকে মেয়েটির পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দেন ইউএনও। 

ঘটনাস্থলে থাকা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেব’র পরিচালক ফরিদুল আলম জানান, বাড়ির পাশেই একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলে কিশোরী ১৩ বছর বয়সের শায়ালা( প্রতীকী নাম)। সদ্য সপ্তম শ্রেনি পাশ করে অষ্টম শ্রেনিতে উঠার পর মা-বাবা মেয়েটির বিয়ের আয়োজন করেন। পড়ালেখায় আগ্রহ থাকার পরেও একধরণের সামাজিক ও পারিবারিক ছাপের কারণে মেয়েটিকে বিয়েতে বাধ্য করা হচ্ছিল বলে এই উন্নয়ন সংস্থাটি জানান। এমন খবর আসার পর তারা বিষয়টি মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নজরে আনেন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম মহেশখালীর সব খবরকে জানান এমন খবর জানার পর  বিকেলেই তার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি ইউনিট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কিশোরীর বাড়িতে যান। এসময় কিশোরীর বাবা-মা ও পাড়ার নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে এই বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি জানান প্রশাসনের উদ্যোগেই আজ মেয়েটিকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হবে। তার পড়া লেখার যাবতীয় খরচ বহন করবে উপজেলা প্রশাসন। এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়েটির শিক্ষাসামগ্রী কেনার জন্য নগদ ২ হাজার টাকা দেওয়া হয় মেয়েটির পরিবারকে। 

এদিকে মেয়ের বাবা আগামীতে বিয়ে দেওয়ার মত তার সক্ষমতা নাও থাকতে পারে বলে আশংকার কথা জানালে স্থানীয় সমাজপতি রহিম বাদশা মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এসময় উপস্থিত গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক রোগ, এই মেয়েটির অধিকার রয়েছে উপযুক্ত শিক্ষাগ্রহণের ও উপযুক্ত সময়ে বিয়ে করার। তিনি এনিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায় মহেশখালীতে বাল্য বিবাহের প্রবণতা বেশী এই নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগেই গত কয়েকমাসে অন্তত: ৪০ টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়।
 



শেয়ার:

মন্তব্য দিন: