সংসদ বক্তৃতায় আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এমপি যা বললেন (হুবহু)


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। মাননীয় স্পীকার, আজ এই মহান জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি। আমার মহেশখালী-কুতুবদিয়ার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মাননীয় স্পীকার, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলার রাখাল রাজা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমাদের মা, আমাদের তিন তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। আমি আজকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের নেতা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে- যিনি আমাকে নমিনেশন দিয়ে এই মহান সংসদে তৃতীয়বারের মতো কথা বলার, আমাদের মহেশখালী-কুতুবদিয়ার অবহেলিত দ্বীপ কুতুবদিয়া-মহেশখালীর উন্নয়নের কথা বলার, দেশের কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন, সেজন্য আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মাননীয় স্পীকার, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের নবযাত্রা সূচিত হয়েছে। মাননীয় স্পীকার, আপনি জানেন পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম নজির আছে যেখানে কোনো নেতা বিদেশি নির্বাসন থেকে মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন, জনগণকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মোবিলাইজ (Mobilize) করেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দিকনির্দেশনা দিয়ে জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জিইয়ে রেখেছেন। ১৯১৪ সালে ভ্লাদিমির লেনিন, ১৯৪০ সালে ফ্রান্সের চার্লস ডি গল, ৭০-এর দশকে ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনী, স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের পোল্যান্ডের গণতন্ত্রকামী নেতা লেক ওয়ালেসা- তারাও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তেমনিভাবে মাননীয় স্পীকার আপনি জানেন, ওয়ান ইলেভেনের পর ১৭ বছর ১৮ বছর পর আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি জনাব তারেক রহমান লন্ডন থেকে একটি চেয়ারে বসে ১৭ বছরের এই ঘুমন্ত বিএনপিকে ঘরে ফেরা বিএনপিকে আবার জাগ্রত করে বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টদের অপসারণে যে ভূমিকা রেখেছেন। আমাদের এমন কোনো নেতা নেই এখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য থেকে আরম্ভ করে এমন কোনো নেতা নেই যার বিরুদ্ধে মামলা হয় নাই। গুম হয়েছি, খুন হয়েছি, আমরা জেলে গিয়েছি ৩৬ লক্ষ মামলার ভার নিয়ে। আমরা স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ৫ই আগস্ট জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আজকে এই দেশ যে ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে সেজন্য আমি আজকে আমাদের দলের নেতাকে ধন্যবাদ জানাই।

মাননীয় স্পীকার, আপনি জানেন আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার ভিত্তিতে আপনার মাথার ওপর যে ছাতা আছে আটটি কবজা- আমাদের এই বাংলাদেশের ৩১ দফা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার, আমরা আটটি কর্মসূচির মাধ্যমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষি কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’, ‘ইমামের বেতন’, ‘স্পোর্টস’, ‘এডুকেশন’, ‘এনভায়রনমেন্ট’ এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট’-এর মাধ্যমে একই কবজার নিচে নিয়ে এসে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখছি সেই নবযাত্রায় আমি আমার দল এবং বিরোধী দলের সম্মানিত সকল সদস্যকে অংশগ্রহণ করে আমরা যাতে বাংলাদেশের আগের ফ্যাসিস্ট রাজনীতি বাদ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে, বিবেচনার মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যে সংগ্রাম আমরা চালিয়ে যাচ্ছি সেই সংগ্রামে আপনারা সবাই শরিক থাকবেন।

মাননীয় স্পীকার, আমি আমার এলাকার দু-চারটা কথা বলব মাননীয় স্পীকার। আপনি জানেন আমার মহেশখালী-কুতুবদিয়া লবণের জন্য বিখ্যাত। আমরা উৎপাদন করলে আপনারা লবণ খেতে পারেন। আমরা সেই লবণ আমরা বিক্রি করি ৩ টাকা সাড়ে ৩ টাকা পার কেজি। আর সেই লবণ ঢাকায় এবং প্যাকেটজাত হয়ে সেই লবণ বিক্রি হয় ৪০ টাকা ৪২ টাকা কেজি। মানবিক... মানবতা বিবর্জিত হচ্ছে আমাদের দেশে মাননীয় স্পীকার।

আমি মহেশখালী-কুতুবদিয়া দ্বীপাঞ্চলের মানুষ মাননীয় স্পীকার। আমার বেড়িবাঁধ দরকার, প্রোটেক্টিভ ওয়ার্কের (Protective Work) মাধ্যমে বেড়িবাঁধ দরকার। ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় আপনার মনে আছে নিশ্চয়ই। সেদিন আমাদের বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের বয়স ছিল মাত্র ৩৯ দিন। সেই ৯১ থেকে এই ২৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০০ কোটি, ২০০ কোটি, ৫০০ কোটি খরচ হয়। খরচ করতে করতে সব টাকা শেষ হয়ে যায়, এ বছর বাঁধলেন বর্ষা গেলে আবার ডুবে গেল। সেই ব্যবস্থা না করে আমি অনুরোধ জানাব আমার কুতুবদিয়া বেড়িবাঁধ প্রোটেক্টিভ ওয়ার্কের মাধ্যমে। 

মাননীয় স্পীকার এক মিনিটে কনক্লুড (Conclude) করছি। আমার দেশ মিষ্টি পানের দেশ, সাদা সোনার দেশ। সেই আমাদের মিষ্টি পানকে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে গণ্য করা হোক। আমাদের লবণের দাম তো অবশ্যই দেবেন মাননীয় স্পীকার। বিগত বছরে প্রচুর পরিমাণ লবণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণের মাধ্যমে খাদ্য লবণ আমদানি করে বিগত সরকারের ট্যাক্সবিহীন লবণ আমদানি করে... এবং আবার যদি লবণ আমদানি করতে চান তাহলে ১২০ পারসেন্ট লবণের মধ্যে ট্যাক্স বসাতে হবে। আর কস্টিক সোডার আড়ালে আনলিমিটেড লবণ ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি করে মাননীয় স্পীকার আমাদের দেশীয় লবণকে একেবারে নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, আমাদের চাষিরা মরণপণ নিয়ে এখন বেঁচে আছে।

মাননীয় স্পীকার, নির্বাচনের সময় বলেছিলাম আমি কাফনের কাপড় পরে সংসদে যাব, কিন্তু কাফনের কাপড় পরে আসতে পারিনি। কিন্তু আমার লবণ চাষিরা এখন কাফনের সাথে, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।