দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ‘হৃৎপিণ্ড’ মহেশখালীর মাতারবাড়ি ও মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে দুই দিনের সফরে দুই মন্ত্রী


মাহবুব রোকন।। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা মেটানোর প্রধান কেন্দ্র মহেশখালী ও মাতারবাড়ি অঞ্চলের মেগা প্রকল্পগুলোর সক্ষমতা এবং বর্তমান অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছেন সরকারের শীর্ষ দুই নীতিনির্ধারক। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই সফরে গভীর সমুদ্রের ভাসমান গ্যাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে মাতারবাড়ির কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি কৌশলগত স্থাপনা সরজমিনে ঘুরে দেখছেন। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে মহেশখালীকেন্দ্রিক জ্বালানি অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, আজ শুক্রবার সকালে দুই মন্ত্রী আকাশপথে রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছান। সেখান থেকে তারা দ্রুতগামী বিশেষ নৌযানে করে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে স্থাপিত ভাসমান গ্যাস টার্মিনাল (এফএসআরইউ) পরিদর্শনে যান। দুপুরে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এই টার্মিনালে অবস্থান করে তাঁরা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি, পুনরায় গ্যাসীকরণ এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেন। সমুদ্রপথের এই অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কারিগরি দিকগুলো তদারকি শেষে বিকেলে মন্ত্রীদ্বয় মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে পৌঁছবেন। সেখানে প্রস্তাবিত স্থলভিত্তিক এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল এলাকা এবং নির্মাণাধীন মাতারবাড়ি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শন করবেন তাঁরা। দেশের দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাতারবাড়ি অঞ্চলের এই মেগা প্রকল্পগুলোকে বর্তমান সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আজ দিনশেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের অতিথি ভবনেই রাত্রিযাপন করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আগামীকাল শনিবার সকালে দুই মন্ত্রী মাতারবাড়ি থেকে সড়কপথে মহেশখালীর এসপিএম (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) প্রকল্পের বিশাল ট্যাংক ফার্ম পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে আমদানিকৃত জ্বালানি তেল মজুদের ধারণক্ষমতা, পাম্পিং সুবিধা এবং পাইপলাইন সংযোগসহ অন্যান্য কারিগরি স্থাপনা পর্যবেক্ষণের পর তাঁরা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি কেন্দ্র সরজমিনে দেখবেন। প্রশাসনিক ও কারিগরি পরিদর্শন শেষে বেলা ১১টার দিকে মহেশখালীর ঐতিহাসিক আদিনাথ ঘাট হয়ে স্পিডবোট যোগে তাঁরা কক্সবাজার সদরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। এরপর আকাশপথে কক্সবাজার থেকে পুনরায় ঢাকায় ফেরার মধ্য দিয়ে দুই দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রীদের এই সফরে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দলের সাথে রয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান। এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ কোস্ট গার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ-র পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মহেশখালী-মাতারবাড়ি অঞ্চলটি বর্তমানে দেশের একক বৃহত্তম ‘জ্বালানি হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শীর্ষ পর্যায়ের এই সরজমিন পরিদর্শন শুধু চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি যাচাই নয়, বরং আগামীর বড় ধরণের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং কৌশলগত নীতি নির্ধারণের পথ প্রশস্ত করবে। উপকূলীয় এই জনপদের উন্নয়নে সরকারের এই সক্রিয় ও জোরালো অবস্থান স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মনেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।