৯০ দিনের জ্বালানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা; এসপিএম ও গভীর সমুদ্রের মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে কড়া বার্তা
মাহবুব রোকন।। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাতে দেশের মানুষকে সম্পূর্ণ দুশ্চিন্তামুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্রের ভাসমান গ্যাস টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং এসপিএম প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। দেশের সম্পদ ব্যয় করে অনেক প্রজেক্ট করা হয়েছে যা এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়নি। বিশেষ করে এসপিএম (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) প্রকল্পটি কমিশনিং হওয়ার পরও শুধু ঠিকাদার নিয়োগের জটিলতায় চালু করা সম্ভব হয়নি। আমরা এখন সেই পরিস্থিতির সমাধান করে কাজের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটানো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ-এর মাধ্যমে দেশের মোট চাহিদাও প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া মাতারবাড়িতে নতুন একটি এলএনজি এবং একটি এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। এই মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই সরজমিন পরিদর্শন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি মজুদ বা স্টোরেজ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা ন্যূনতম ৯০ দিনের জ্বালানি সংরক্ষণ করতে পারি। অতীতে এই সক্ষমতা ছিল না। এখন আমাদের রেডি স্টোরেজ কোথায় আছে এবং তা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
বৈশ্বিক সংকট ও এর প্রভাব নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা করোনা মহামারীর চেয়েও বর্তমানের মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে বেশি প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবে এই সংকট রাতারাতি শেষ হবে না জেনে আমরা বিকল্প উৎস নিয়ে কাজ করছি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে কয়লা আমদানির প্রতিটি ধাপ মন্ত্রণালয়, বাপেক্স এবং পেট্রোবাংলা সরাসরি তদারকি করছে।
সফলভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারি, তবে এই সরকারের মেয়াদ শেষে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে দেশের মানুষের আর কোনো উদ্বেগ থাকবে না। দেশবাসী দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবে ইনশাআল্লাহ।”
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মেগা প্রকল্পগুলোর নিবিড় তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে মন্ত্রণালয় সরাসরি মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করবে বলেও তিনি জানান। আজ রাতে মহেশখালী থেকে আগামীকাল (শানিবার) বাকি কাজ শেষে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
