জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, “খাম্বা তারেকে দল বিএনপি হলে, কসাই কাদের ও দেইল্লা রাজাকারের দল জামাত হবে না কেন? নাকি দেইল্লা রাজাকারের দল জামাত বললে নব্য বকধর্মিকেরা রাগ করবে?” পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর অনুসারী, ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই এটিকে একজন প্রয়াত ইসলামী ব্যক্তিত্বের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী পোস্টটির স্ক্রিনশট শেয়ার করে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন।
ফেসবুকের ‘ডি. কৃষিবিদ মু. শহীদুল ইসলাম’ নামের একটি আইডি থেকে পোস্টটির স্ক্রিনশট শেয়ার করে লেখা হয়, “আপনি হয়তো জানেন না, আল্লামা সাঈদীর মতো ব্যক্তিত্ব শত বছরে একবার জন্ম নেন। কে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু একজন সর্বজন পরিচিত ইসলামী ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করে আপনি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি।”
অন্যদিকে ‘আশিক ইবনে ইয়াকুব’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়, “একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে এমন বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের কাছ থেকে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হয়।”
আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী বাংলাদেশের একজন বহুল আলোচিত ইসলামী বক্তা, তাফসিরকারক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর অনুসারীদের মতে, তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনের শোক প্রস্তাব পর্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে, দলমত নির্বিশেষে সংসদের সকল সদস্য তা সমর্থন করেন। অন্যদিকে তাঁর বিচার ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত ও বিতর্কও বিদ্যমান।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম পোস্টটি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, এটি ভুলে তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, সাঈদী সাহেব সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। ভুলবশত পোস্টটি দেওয়ায় আমি নিজেও কষ্ট পেয়েছি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্যও করছেন।
তবে এ বিষয়ে কক্সবাজার সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান এ বিতর্ককে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন মহল সংযত ভাষা ব্যবহার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং মত প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।
