হামলায় গুরুতর আহত মাহবুবুর রহমান (৪০) বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মিয়াজির পাড়া এলাকার মৃত মুজাহারুল হক প্রকাশ মুজাহার মেম্বারের ছেলে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় নেতৃত্বদানকারী মূল অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকতার আড়ালে অনুমোদনহীন কোচিং সেন্টার খুলে ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় তিনি জঘন্য নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করে।
অভিযোগ রয়েছে, জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে হাবিবুর রহমান আবারও গোপনে অবৈধ কোচিং ব্যবসা শুরু করেন এবং একই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। পরিবারের সম্মান রক্ষা ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে বড় ভাই মাহবুবুর রহমান এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে হাবিবুর চরম ক্ষিপ্ত হন।
এই প্রতিবাদের জেরে গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় নতুন বাজার উত্তর কবরস্থান এলাকায় ওত পেতে থাকা হাবিবুর রহমান এবং তাঁর অপর দুই ভাই মিশকাত ও শাহ আলম দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মাহবুবুর রহমানের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাঁরা মাহবুবুরকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন।
আহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারী তিন ভাই স্বভাবগতভাবেই অপরাধপ্রবণ। এর মধ্যে মিশকাত দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সাথে জড়িত। অন্যদিকে শাহ আলমের বিরুদ্ধে উপজেলার কুতুবজোম ও সোনাদিয়া দ্বীপে চিংড়ি ঘের দখল, প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ বন) নিধন এবং ভাড়াতে সন্ত্রাসী হিসেবে সরকারি খাস জমি দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মূলত হাবিবুরের অবৈধ আয়ে চলেন বলেই অনৈতিক জেনেও ভাইয়ের ওপর হামলায় অংশ নেন অপর দুই ভাই।
হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা মাহবুবুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আপন বড় ভাইয়ের ওপর এমন নক্কারজনক হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মহেশখালী থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
