টোল ফি ৫ টাকা নির্ধারণের পরিপত্র জারি
সম্প্রতি কক্সবাজার নদী বন্দরের কস্তুরাঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সাধারণ দ্বীপবাসীর ওপর পর্যটকদের সমপরিমাণ ৫০ টাকা প্রবেশ ফি চাপিয়ে দেওয়ার এক অপচেষ্টা চালায় ঘাটের ইজারাদাররা। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অবৈধ ব্যানার টাঙিয়ে সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটার বন্দোবস্ত করা হলে মহেশখালীজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিমের নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিক ঘাটে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ব্যানার ও নোটিশ অপসারণসহ ইজারাদারদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা গ্রহণ করেন।
তবে সমস্যার স্থায়ী ও আইনি সমাধানের লক্ষ্যে সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ নিজেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি সরাসরি বিআইডব্লিউটিএ প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান কমোডোর মো. মুহিদুল ইসলামের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে এমপি আলমগীর ফরিদ মহেশখালীর সাধারণ মানুষের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা, প্রতিনিয়ত পারাপারের দুর্ভোগ, সি-ট্রাক বন্ধ রেখে স্পিডবোট ও কাঠের বোটে মানুষকে জিম্মি করার চিত্র এবং অতিরিক্ত ফি আরোপের চরম অযৌক্তিকতা শক্ত যুক্তিসহ তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্যের এই দৃঢ় ও আপসহীন অবস্থানের প্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকারি পরিপত্র ও নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, কস্তুরাঘাট ও মহেশখালীর সাধারণ পারাপারে নিয়োজিত যেকোনো নৌযানের সাধারণ যাত্রীদের জন্য প্রবেশ ফি ভ্যাটসহ আগের মতোই মাত্র ৫ টাকা বহাল থাকবে। অন্যদিকে ৫০ টাকা (দেশি) ও ৩০০ টাকা (বিদেশি) প্রবেশ ফি নেওয়ার বিষয়টি কেবল সেন্টমার্টিন বা টেকনাফগামী বিশেষ নির্ধারিত পর্যটকবাহী জাহাজের যাত্রীদের জন্যই প্রযোজ্য। নির্দেশ অমান্য করে যাত্রী হয়রানি বা অতিরিক্ত ফি আদায়ের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের চুক্তি বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মহেশখালীর মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ ও সুগম করতে, ঘাটে ইজারাদারদের কৃত্রিম সংকট তৈরি বন্ধে এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এমপি আলমগীর ফরিদের এই সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে দ্বীপজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ জনগণ তাঁদের প্রিয় জনপ্রতিনিধির এমন দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
