আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

২০১৯’র মধ্যে সবার জন্য আবাসন - মহেশখালীর সব খবর

⬤ আমাদের নতুন ওয়েবসাইটে স্বাগতম। ⬤ আমাদের ওয়েবসাইট www.moheshkhalirsobkhabor.com ⬤ ফেসবুক ফেইজ www.facebook.com/m.sobkhabor ⬤ ইউটিউব চ্যানেল www.YouTube.com/Sobkhabor24x7 ⬤ ফেসবুক গ্রুপ www.facebook.com/groups/m.sobkhabor ⬤

২০১৯’র মধ্যে সবার জন্য আবাসন

ঢাকা: ক্ষুদঋণের গণ্ডিতে থেকে দারিদ্র্যকে না পোষার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী তিন বছরে দেশে অবশিষ্ট ২ লাখ ৮০ হাজার গৃহহীন পরিবারের আবাসন নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ধাপে ধাপে দারিদ্র্য বিমোচন করা। এ জন্য দরিদ্র মানুষগুলোকে ক্ষুদ্রঋণের গণ্ডিতে ফেলে রেখে দারিদ্র্যকে লালন-পালন না করে আয় বর্ধক কর্মকাণ্ড, সমবায় ও ক্ষুদ্র সঞ্চয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

আমরা চাই, মানুষ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য থেকে উঠে আসুক।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, উচ্চ সুদে ক্ষুদ্রঋণ। সুদের চাপে সেই মানুষগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রেই থেকে যায়।

বুধবার (১৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প-২, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প, ঘরে ফেরা কর্মসূচি, গৃহায়ন তববিল প্রকল্পের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ক পর্যালোচনা বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ গৃহহীন মানুষের আবাসনে সরকারের সফলতা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে এখনো ২ লাখ ৮০ হাজার পরিবার গৃহহীন রয়েছে বলে জানালে শেখ হাসিনা তার সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।

গৃহহীনদের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন গৃহায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে এই সরকারের মেয়াদে দেশে কোনো গৃহহীন মানুষ থাকবে না। এটা নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদ আছে আর মাত্র দুই বছর আট মাস। এর মধ্যে আমাদের প্রতিটি মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময়ের মধ্যে প্রতিটি মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

গৃহহারা প্রতিটি মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদ্ধতিতে কাজ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন প্রকল্পগুলোও দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি।

অসহায় গৃহহীন মানুষের দূর্ভোগ হ্রাসে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি গৃহহীন পরিবারের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে চায়। অসহায় মানুষ ফুটপাত, রেলওয়ের পাশে কিংবা অন্য কোথাও খোলা আকাশের নিচে অমানবিক পরিবেশে জীবনযাপন করুক, আমরা এটা চাই না।

গৃহহীন মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে গৃহহীন হয়। সরকারের দায়িত্ব তাদের জন্য আশ্রয় নিশ্চিত করা।

যেসব গৃহহীন মানুষকে পুর্নবাসন করা হবে তাদের ঠিকানা ও ছবিসহ পরিপূর্ণ তালিকা তৈরির নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত অসহায় মানুষগুলোই যেন সরকারের সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষ যেন সরকারের সহযোগিতা নির্ভর না হয়ে আত্মনির্ভরশীল হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজ না করার প্রবণতা যেন সৃষ্টি না হয়। পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া। সহযোগিতা পেয়ে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে কেউ যেন কর্মবিমুখ না হয়। আমরা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ তৈরি করে দিতে চাই।

এক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি সরকারের সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আশ্রয়ন প্রকল্পে বিক্রিযোগ্য উপাদান বিক্রি করে দেওয়াসহ প্রভাবশালীদের কাছে জায়গা ছেড়ে দিয়ে চলে যাওয়ার অতীত কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন ঘটতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এক্ষেত্রে ব্যারাক নির্মাণ ও সমবায়ভিত্তিক আবাসন করার কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর বিভিন্ন অংশে বস্তিতে বসবাসরত মানুষগুলোকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে পুর্নবাসনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বস্তি ও গৃহহীনদের জন্য শহরে আবাসন করার ক্ষেত্রে একেবারে ফ্ল্যাট না দিয়ে ভাড়া দেওয়ার পদ্ধতি চালুর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে কেউ দরিদ্র থাকবে না। সে লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার চায়, মানুষকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের করে নিয়ে আসতে।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তারা কাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তৌফিক-ই-এলাহি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ।
Powered by Blogger.