মহেশখালীতে বিমান বাহিনীর দুটি ইয়াক ১৩০ বিমান বিধ্বস্ত


মাহবুব রোকন
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দু’টি Yak 130 মডেলের বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হওয়া বিমান দু’টির ৪ জন পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আস্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর এর মোঃ নূর ইসলাম বুধবার রাত সাড়ে ৯ টায় এই প্রতিবেদককে টেলিফোনে জানান -বিমান বাহিনীর Yak 130 মডেলের দুইটি বিমান বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে চট্টগ্রামের জহুরুল হক বিমান ঘাটি থেকে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের পর আনুমানিক সাড়ে ৬ টার দিকে বিমান দুইটি মহেশখালীর আকাশে দুর্ঘটনার বকলে পড়ে। বিমান দুটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই ৪ জন পাইলট নিরাপদে প্যারাসুট ব্যবহার করে অক্ষত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার এবং ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উদ্ধার অভিযান চালায়। দুটি বিমানের ৪ পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান আইএসপিআর এর এই কর্মকর্তা। 

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান -সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা সদরের খুব কাছেই বিকট শব্দে বিমান দু’টি ভেঙ্গে পড়ে আগুন ধরে যায়। পরে তিনি ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। রাত ৬ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দুল করিম জানান -মহেশখালী পৌরসভার দাসিমাঝি পাড়া ও ছোট মহেশখালীর মাইঝপাড়া এলাকায় বিমান দুটি ভেঙ্গে পড়ে। দাসিমাঝির পাড়ায় বিদ্ধস্ত হওয়া বিমানে আগুন ধরে গেলেও ছোট মহেশখালীতে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি প্রায় অক্ষত ভাবে একটি পানের বরজে গিয়ে পড়ে। এদিকে আইএসপিআর জানান সামগ্রিক ভাবে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

এদিকে আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান দুর্ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানগুলো রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তারপরই বিধ্বস্ত হয়। বিমান দুটি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। জানা যায়, ইয়াক-১৩০ মডেলের এ দুটো বিমান একই সময়ে চট্টগ্রাম বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুটো বিমানে দু’জন করে চারজন বৈমানিক ছিলেন। তারা হলেন- বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন শরীফ, উইং কমান্ডার রাজীব, উইং কমান্ডার আজিম ও স্কোয়াড্রন লিডার মনির। তারা বিমান দুটোতে আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গে প্যারাসুটের মাধ্যমে প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হন। তারা ফরমেশান ফ্লাইংয়ের (পাশাপাশি দুটো উড্ডয়ন) সময় এ দুর্ঘটনার শিকার হন। পাইলট চারজনই এখন সুস্থ ও নিরাপদে আছেন বলে জানা যায়। কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার সাধন কুমার মোহন্ত এ দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে জানান, আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রত্যক্ষদর্শী যুবক খালেদ মোশাররফ জানান, বিকট শব্দের পরপরই দেখা যায় ঘটনাস্থলে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধুয়ার কুণ্ডলি। পরে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট রওনা হয়। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে ১৫টি স্পিড বোট প্রস্তুত রাখা ছিল। এগুলো নিয়ে উদ্ধার কার্য চলার প্রস্তুতি চলছিল। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল জানান, একটি প্রশিক্ষণ বিমানে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এতে বিমানটি তিন টুকরো হয়ে মহেশখালীর বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। 

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে -আগুন নেভাতে গিয়ে বিছিন্ন ভাবে ৫ জনের মতো লোক আহত হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত ফাইলট ও স্থানীয়দের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শেয়ার:

মন্তব্য দিন: