কুতুবজোমের বজুরুক পাড়ার এমন একটি বাড়ির সামনে ফেরিঅলা ইসমাইলের স্ত্রী নুর আয়শাকে দেখাযাচ্ছে।

বিশেষ প্রতিনিধি ⬤
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত "সবার জন্য বাসস্থান" নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে “যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় মহেশখালীতে অতিদরিদ্র ও ভিক্ষুকদের জন্য  ২ শ’৫৭ টি বাড়ি নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। এই পর্যায়ে ২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যয়ে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যে মহেশখালীতে এই কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে দ্বীপের বাস্তুহীন দরিদ্ররা এমন তৈরি বাড়ি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তবে এখনো এই দ্বীপে বাড়ি পাওয়ার মতো অনেক মানুষ রয়েছে। এই প্রকল্পে আগামীতে আরও ৫শ’টি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানাগেছে।

জানাগেছে, সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ‘যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ উপ-খাতের আওতায় মহেশখালী দ্বীপে বর্তমানে ২ শ’৫৭ টি বাড়ি টিনসেড বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। মূলত গৃহহীন অতিদরিদ্র ও ভিক্ষুকরাই পাচ্ছেন এসব সরকারি বাড়ি। নিজের একখ- জমির উপর সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে এসব বাড়ি। 

ঢাকা থেকে প্রকল্প সূত্রে জানাযায় -১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ায় বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। দেশের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন এবং সকল গৃহহীন পরিবারসমূহকে পুনর্বাসনের তাৎক্ষনিক নির্দেশ দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে “আশ্রয়ণ” নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনটি ফেজে আশ্রয়ণ প্রকল্প (৯১৯৭ - ২০০২), আশ্রয়ণ প্রকল্প (ফেইজ-২) (২০০২ - ২০১০), আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প (২০১০ - ২০১৭) মোট ১,৫৯,৮৯০টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। তন্মধ্যে আশ্রয়ণ- ২ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৩,৯৭৭টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। বর্ণিত প্রকল্পের সাফল্য ও ধারাবাহিকতায় ২০১০-২০১৯ (সংশোধিত) মেয়াদে ২.৫০ লক্ষ গৃহহীন, ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ নামে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মহেশখালীতে এই বাড়ি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। 
চট্টগ্রামের জনপ্রিয় দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশে গুরুত্বসহকারে ছাপা হয় খবরটি

মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল আলম সাকিব জানান - এই প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী পৌরসভা ও অপর ৭টি ইউনিয়নে মোট ২৫৭ টি বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে পৌরসভায় ৪৯টি, কুতুবজোম ইউনিয়নে ৫৭টি, ছোট মহেশখালীতে ২০টি, কালারমার ছড়ায় ৩২টি, হোয়ানকে ১৩টি, শাপলাপুরে ২৬ টি, মাতারবাড়িতে ৩৬টি ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নে ২৪ টি বাড়ি রয়েছে। গত ১০ নভেম্বর এসব বাড়ি নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়। চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে এসব বাড়ি নির্মাণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে দুপুরে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম, সহকারী কমিশনার(ভূমি) বিভীষণ কান্তি দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সফিউল আলম সাকিবের নেতৃত্বে একটি দল এসব নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম সুষ্ঠু মানসম্মত ভাবে বাড়িগুলো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান। উপজেলার কুতুবজোমে এমন একটি বাড়ি পাচ্ছেন স্থানীয় ফেরিঅলা মোঃ ইসমাইল। 

সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বাড়িটিতে পাওয়া যায় তার স্ত্রী নুর আয়শা বেগমকে। আলাপকালে নুর আয়শা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন বাড়ি পেয়ে বেশ মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান - তার স্বামী একজন ফেরিঅলা। এলাকায় আইসক্রিম বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান। এতোদিন তাদের কোনো স্থায়ী বাড়ি ছিল না। দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তারা খুব কষ্টে জীবনযাপন করে আসছিল। এখন বাড়ি পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের কাছে এসে খোঁজ খবর নিচ্ছে। এতে তারা খুশি। তিনি দুঃসময়ে তাদেরকে বাড়ি পাওয়ার জন্য নির্বাচন করায় তিনি এলাকার সন্তান আশেক উল্লাহ রফিক এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই ভাবে এমন প্রাপ্তিতে বেশ কৃতজ্ঞতা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন গৃহ পাওয়া লোকজন। এবার সবচেয়ে বেশী বাড়ি পাচ্ছেন কুতুজোমের দরিদ্র লোকজন। 

এপ্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন খোকন জানান -দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দরিদ্র মানুষের জন্য একটি সংবেদশীল সত্ত্বার নাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বাস্তুহারা দরিদ্র মানুষের শেষ ঠিকানা। এলাকার জনপ্রিয় আশেক উল্লাহ রফিক এমপি’র হাত ধরে মহেশখালীতে নজিরবিহীন উন্নয়ন কাজ চলছে। এটি তারই অংশ। তিনি বলেন -কুতুবজোম একটি দরিদ্র পিড়ীত এলাকা। আগামী এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার আরও কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এপ্রসঙ্গে কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক জানান -বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এলাকার জনসাধারণের সার্বিক নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে বাড়ি নিমার্ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর একটি দান। আগামীতে দ্বীপাঞ্চলে এরকম আরও বহু উন্নয়ন কাজ হবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে মহেশখালীর বাস্তুহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় ২ শ’৫৭ টি বাড়ি অপ্রতুল বলে মনে করেন অনেকেই। তারা আগামীতে এই দ্বীপাঞ্চলে এরকম আরও বাড়ি বরাদ্দের আবেদন জানান। অপরদিকে দ্রুত সময়ে মহেশখালীতে এরকম আরও ৫০০টি বাড়ি নিমার্ণ করা হবে দায়িত্বশীল একটি সরকারি সূত্রে জানাগেছে।

শেয়ার:

মন্তব্য দিন: