কক্সবাজারের মহেশখালী প্রেস ক্লাব সভাপতি মাহবুব রোকনের উপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট ও মারধর করেছে ছাত্রলীগ নেতা নুরুদ্দিন মাসুদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। সকালে বড় মহেশখালীর নতুন বাজারস্থ তার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় মাহবুব রোকন ও তার ভাইগণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

সকালে তাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেন সাংবাদিক মাহবুব রোকন। এসময় মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের নেতা নুরুদ্দিন মাসুদের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে বন্দুক, লাটিসোটা ও দা, কিরিচ নিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে অর্তকিতে হামলা চালায়। এসময় খবর পেয়ে তার ভাইগণ এগিয়ে এলে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই উপস্থিত সবাইকে ব্যপক মারধর করতে থাকে। তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা লুটপাট করে নেয়। এক পর্যায়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুটপাট করতে থাকে। এ সময় ব্যাপক ভাংচূর চালায়। হামলাকারিরা মূল্যবান মালামাল রক্ষিত সেলফের গ্লাস ভাংচূর করে নজিরবিহীন নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার পাশা চৌধুরী ও মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালামকে জানানো হয়। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পরে আহত সাংবাদিক মাহবুব রোকনসহ অন্যদের উদ্ধার করে মহেশখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইয়াবা ক্যাডার খ্যাত কর্মীবিচ্ছিন্ন নুরুদ্দিন মাসুদের সন্ত্রাসী দলের এই হামলার সময় ছাত্রলীগ তথা অন্য অংগ ও সহযোগী সংগঠনের কাওকে দেখা যায়নি। মূল ছাত্রলীগের অনেকেই এই নিলজ্জ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একটি দখলবাজ চক্রের ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসী মাসুদ পরিকল্পিত এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানাগেছে। মাসুদ মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের ৫ নং যুগ্ম-আহ্বায়ক। সে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তাফার ভাইপো।

এড. সিরাজুল মোস্তাফার বক্তব্যঃ চাচা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তাফার নাম ব্যবহার করে কুখ্যাত মাসুদ একের পর এক সন্ত্রাসী প্রক্রিয়ায় অঢেল সম্পাদের মালিক হলেও মাসুদের এসব বিষয়ে নিজের কোন সমর্থন নেই বলে স্পষ্ট জানান কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তাফা। তিনি শপথ করে বলেন ঘটনার বিষয়ে তার বিন্দু পরিমানেও সমর্থন নেই। এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বরং তার আত্মিয় স্বজনের এমন বির্তকিত আচরণে বিভ্রত বলে জানান। তিনি হামলা ও লুটপাটের এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ নিয়ে আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। এবং সাংবাদিক মাহবুব রোকনের পক্ষে যা করতে হয় করবে বলে আশ্বস্থ করেন।

এদিকে সস্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় -তারা চিকিৎসা নিচ্ছে। পরবর্তি উদ্যোগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হবে। সাংবাদিক রোকনের মোবাইলসহ মোবাইল ব্যাংকিং এর একাধিক মোবাইল এখনও হামলাকারিদের হাতে রয়েছে। মহেশখালী থানার ওসি দ্রুত এসব মোবাইলসহ লুট হওয়া জিনিস উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কিছু উদ্ধার হয়নি বলে জানাগেছে।
Share To:

Sobkhabor24x7

Post A Comment: