মহেশখালীতে একটি চক্র আদালতের মামলা গোপন রেখে কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ অফিস থেকে প্রায় ২০ কানি বা আট একর জমিনের টাকা উত্তোলনের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় জনৈক আবু তাহের ও তার লোকজন দালালের মাধ্যমে গোপনে বৃদ্ধ বজল আহমদ গং এর টাকা উত্তোলন করে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।

জানাগেছে -উপজেলায় দুইটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের জন্য সরকার মাতারবাড়ি, ধলঘাটা, কালারমার ছড়া ও হোয়ানক থেকে অধিগ্রহণ করছে বিভিন্ন মৌজার ভূমি। এরই ধারাবাহিকতায় কালারমার ছড়া মৌজার শুদ্ধখালী ঘোনা থেকেও জমি অধিগ্রহণ করেছে। কিছু কিছু জমিনের মালিকরা ইতিমধ্যে টাকা উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু উক্ত শুদ্ধখালী ঘোনার আরএস ৫৭৮নং খতিয়ানের ৩০ একর ১১ শতক জমি যা বিএস ৬৮৬ নং খতিয়ানে জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ একর ৩৮ শতক। আরএস ৫৭৮ নং খতিয়ানের ৩০ একর ১১ শতক জমিনের মধ্যে ধলাগাজীর পুত্র আছদ আলী, সেনায়েত আলীর পুত্র বাচা মিয়া, কন্যা ওয়াজ খাতুন, আনাস খাতুন ও সেনায়েত আলীর স্ত্রী সোনা বিবির নামে রয়েছে প্রায় ৮ একর জমি। কিন্তু একটি পক্ষ কৌশলে বিএস ৬৮৬নং খতিয়ান থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে ফেলেন। তা জেনে আসদ আলীর নাতি আবদুল গণির পুত্র বজল আহমদ বিএস সংশোধনের জন্য কক্সবাজার জেলা যুগ্ম-জজ আদালতে একই ইউনিয়নের নুনাছড়ি গ্রামের বদিউর রহমানের পুত্র আবু তাহের গং এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ২২৫/২০১৬ইং। এ অবস্থায় উক্ত ঘোনার জমি অধিগ্রহণ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বিএস খতিয়ান মূলে কক্সবাজার এলএ অফিস নোটিশ দিয়েছে। এলএ মামলা নং- ৪/১৩-১৪ রোয়েদাদ নং- ১০১। রোয়েদাদ নোটিশের সংবাদ জেনে মামলার বাদী বজল আহমদ উক্ত রোয়াদাদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার এলএ অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরিমধ্যে এলএ অফিস কেন্দ্রিক একটি দালাল সিন্ডিকেট বিবাদী আবু তাহের গংদের সাথে যোগসাজশ করে আদালতে থাকা মামলার তথ্য গোপন করে এলএ অফিস থেকে জমিনের সব টাকা উত্তোলন করার পায়তারা চালাচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে অভিযোগটি গোপন করে উক্ত বিরোধপূর্ণ জমিনের টাকা উত্তোলন করে নিতে পারে বলে আশংকা করেছেন বৃদ্ধ বজল আহমদ।

এ বিষয়ে বৃদ্ধ বজল আহমদ জানান -কক্সবাজার জেলা যুগ্ম-জজ আদালতে দায়ের করা মামলার সম্পূর্ণ কাগজপত্র সংযুক্ত করে এলএ অফিসে ১০১ নং রোয়েদাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও কর্তৃপক্ষকে মোটা অংক টাকার বিনিময়ে উক্ত অভিযোগের ফাইল গোপন রেখে আবু তাহের গোপনে টাকা উত্তোলনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে তিনি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
Share To:

Sobkhabor24x7

Post A Comment:

0 comments so far,add yours