চলতি বছরে দেশের সবচেয়ে সাহসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে দেশের ক্রাইম জোন হিসেবে খ্যাত মহেশখালী দ্বীপে জলদস্যু ও অস্ত্রকারীগরের আত্মসমর্পণসহ অস্ত্র জমার চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আর এই কঠিন কাজটি করেছেন পুলিশ বিভাগ। পুলিশ বিভাগ এ সফলতার জন্য বাহবা পেয়েছে। আর পুলিশ বিভাগের হয়ে মাঠ পর্যায়ে এই কাজটি সাহসিকতার সঙ্গে সম্পাদন করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর।

তারপরেও এবারে পুলিশের সাহসী কার্যক্রমের জন্য যেসব সাহসী পুলিশদের পুরস্কৃত করার জন্য চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে সেই তালিকায় নেই মহেশখালীর ওসি প্রভাষের নাম। অথচ চট্টগ্রাম জেলার এমন থানার ওসি’র ভাগ্যেও পুরস্কার জুটছে যে, যার থানায় মাত্র হাতে গুনা কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এ জন্য তিনি বিষয়টি অবহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর পুনঃ বিবেচনার জন্য আবেদন করেছেন।

গত ২৩  নভেম্বর মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রের কারিগরসহ ৯৬ জন ডাকাত আত্মসমপর্ণ করেছেন। এ সময় তারা ২০৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৩০টি গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জমা দিয়েছেন। এ ঘটনায় মহেশখালী থানায় ৩৬টি মামলা রুজু করা হয়। এই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, এমপি, ডিআইজি ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।

এসব ডাকাত ও অস্ত্র কারিগরদের আত্মসমর্পণ করাতে মাঠ পর্যায়ে ওসিকে মহেশখালীর দুর্গম পাহাড় ও বঙ্গোপসাগরে চিরুনি অভিযান চালাতে হয়েছে। এমনকি মহেশখালী দ্বীপে শান্তি ফিরিয়ে আনতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে থানার ওসিকে। এতে সফলও হয়েছেন তিনি।

মহেশখালীতে জলদস্যু ও অস্ত্রকারিগরের আত্মসমর্পণ ঘটনায় সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে পুলিশ বিভাগ। অথচ যিনি মাঠ পর্যায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার ভূমিকা রেখেছেন তার নাম নেই পুরস্কারের তালিকায়।

এ জন্য মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট নিজের সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য বিপিএম পুরস্কারের তালিকায় তার নাম রাখার জন্য পুনঃ আবেদন করেছেন।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ
Share To:

Sobkhabor24x7

Post A Comment:

0 comments so far,add yours