আমার পিতাকে হত্যা করা হয়েছিল -সংবাদ সম্মেলনে পুত্রের দাবি

বার্তা পরিবেশক।। 
ড় মহেশখালীতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় থানায় মামলা না হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। সোমবার সন্ধ্যায় এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের সন্তান খাইরুল আমিন।

লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন '' আমার চাচাত ভাই নুরুল ইসলাম, পিতা - নুরুচ্ছফা, গ্রাম -পশ্চিম জাগিরাঘোনা , বড় মহেশখালী, থানা মহেশখালী, জেলা কক্সবাজার এর সাথে আমাদের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল ।

এ বিরোধের জের গত ৫  মে রাতে আমার পিতা নুর শফি(৬৫) স্থানীয় মসজিদ হতে তারাবীর নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার প্রাক্কালে পশ্চিম জাগিরাঘোনার চৌরাস্তার মোড়ে আমার চাচাত ভাই নুরুল ইসলাম ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নুর মোহাম্মদ, জাফর আলম, ইমতিয়াজ, নুর আহমদ, মো. বেলাল, মোঃ ইসানসহ ওই এলাকার আরও ৪-৫ জন লোক পূর্ব হতে ওৎপেতে থাকে।

এ সময় পরিকল্পিতভাবে আমার পিতার পথরোধ করে অতর্কিত একযোগে আক্রমণ করে ।

এসময় নুর ইসলাম আমার বাবার কাছে হতে তার ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত অংশের চেয়ে অধিক জমি দাবি করেন। আমার বাবা তা প্রত্যাখ্যান করলে সাথে সাথে তারা আমার পিতাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে।

এ সময় তার নির্দেশে উল্লেখিত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা আমার পিতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি উপর্যোপুরি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে বুকে, পিট, পেটে ও অণ্ডকোষে মারাত্মকভাবে জখম করে এবং পরে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে ঘটনাস্থলেই তাকে হত্যা করে।

তাহারা পরিকল্পিতভাবে আমার পিতার মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মৃত অবস্থায় দ্রুত মহেশখালী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে হার্ট স্ট্রোক করেছে মর্মে ডাক্তারকে ভুল তথ্য দিয়ে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করে। কর্তব্যরত ডাক্তার আমার পিতার প্রাথমিক পরীক্ষান্তে মৃত ঘোষণা করেন এবং ব্যবস্থাপত্রে "Brought Death" মতামত লিখে দেন । অতঃপর আসামিরা আমার বাড়ির আঙ্গিনায় পিতার লাশ ফেলে রেখে চলে যায়।

পরবর্তীতে তাদের সহযোগী তথা স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী সন্ত্রাসী লোকজন আমাদেরকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে তড়িঘড়ি ভাবে জোরপূর্বক আমার পিতার লাশ দাফন করিয়ে নেয়। উক্ত ঘটনার ব্যাপারে আমরা মহেশখালী থানায় এজাহার দায়ের করলেও মামলা রুজু হয়নি।

এমতাবস্থায় আমি উক্ত ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে পিতার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে (ময়না তদন্ত) করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক থানায় হত্যা মামলা রুজুসহ উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি ।

সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর উক্ত ঘটনা ঘটিয়েও ক্ষান্ত হয়নি উল্টো আমাদেরকে এব্যাপারে কোন ধরণের মামলা না করার জন্য হুমকি ধমকি প্রদান ব্যাহত রেখেছে। আমরা এ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি, আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।