আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

মহেশখালী ভূমি অফিসের কানুনগোর কান্ড - মহেশখালীর সব খবর

মহেশখালী ভূমি অফিসের কানুনগোর কান্ড



সৈয়দুল কাদের।। মহেশখালীর কালারমার ছড়ার নোনাছড়ি বাজারে একটি ভবন অনৈতিক লেনদের মাধ্যমে তদন্তের নাম করে লিখে দিলেন আরেক জনের নামে। এমন অবাক হওয়ার মত তদন্ত
প্রতিবেদনটি দিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মোঃ মোমিনুল ইসলাম। আদালত একটি তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য মহেশখালী উপজেলা ভূমি অফিসকে নির্দেশ দিলে কানুনগো এই বিভ্রান্তিমুলক রিপোর্টটি আদালতে দাখিল করেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে নোনাছড়ি বাজারের পাশ্ববর্তী মৃত আবদুর রহমানের পুত্র হাজী কালা মিয়া নিজ পৈত্রিক বসতভিটা বিক্রি করে বাজারের অপর পাশে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। পরে তিনি পৈত্রিক বসতভিটা থেকে ২০০৭ সালের ১২ ডিসেম্বর ৫ শতক জমি (শ্রেণী বাড়ী ভিটি ও ঘর) ১৬৬৫ ও ১৬৫৫ নং দলিল মুলে বিক্রি করেন কালারমার ছড়ার আধাঁর ঘোনা গ্রামের রমজান আলীর পুত্র নুরুল হক ও নুরুচ্ছবিকে। যার সৃজিত বি এস খতিয়ান নং -১২৯৪। জমি গ্রহীতারা পরবর্তিতে উক্ত জমিতে মার্কেট নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দিয়েছেন। নিষকণ্ঠক ও জমির নিয়মিত খাজনা দেওয়া, ইউনিয়ন পরিষদের কর পরিশোধ ও মার্কেটের বিদ্যুৎ মিটারের বিল নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন। 

মার্কেটের মালিক নুরুল হক জানান,ওই
জমিটি ক্রয় করার পর থেকে জমির উপর কুনজর পড়ে পার্শ্ববতী মিরাজু বেগম নামের এক মহিলার। সে নানা ভাবে মামলা করে জমি ও মার্কেট দখল করার জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। ওই মহিলা স্থানীয়ভাবে একজন মামলাবাজ হিসাবে পরিচিত। তাঁর স্বামী মৌঃ আমির হোসেনকে ২০০৭ সালে সন্দেহেজনক ভাবে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আটক করেছিল। বর্তমানে সে মধ্য প্রচ্যের বিভিন্ন জঙ্গী অধ্যুষিত দেশে নিয়মিত যাতায়ত করে। তার পাসপোর্ট তদন্ত করলে অনেক রহস্য বেরিয়ে আসবে। 

জমির মালিক আরো জানান, কানুনগো কিভাবে এই তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন তা আমরা কেউ জানিনা। জমি বিক্রেতা কালামিয়ার পরিবারেরও কেউ জানেন না। খুব গোপনেই তিনি এই প্রতিবেদনটি দিয়েছেন। জমি বিক্রেতার ছেলে মনজুর আলম বাদশা জানিয়েছেন, এই মামলাবাজ মিরাজুর কারণে বসতভিটি বিক্রি অন্য একটি স্থানে চলে এসেছি। তার মামলার শিকার হয়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার সাথে যুক্ত হয়েছে মহেশখালী উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো। আমরা কানুনগোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাই। তদন্ত প্রতিবেদনটি পুনঃ যাচাই করলে তিনি যে বড় ধরণের দূর্নীতিতে জড়িত তা বেরিয়ে আসবে। বর্তমানে মহেশখালীতে চলমান জমি অধিগ্রহন কাজে তার দুর্নীতির কারণে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মহেশখালী উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মোঃ মোমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিবেদন ভুল হয়ে থাকলে আদালতে একটি আপত্তি দিতে পারেন নুরুল হক গং। পুনঃতদন্তের হলে আমি সব ঠিক করে দেব।

মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সুই চিং মং মারমা জানান, কোন অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে ব‍্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টিও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.