আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

ঘটিভাঙ্গা সেতুঃ মানুষের অসহায়ত্ব শেষ হবে কবে? - মহেশখালীর সব খবর

ঘটিভাঙ্গা সেতুঃ মানুষের অসহায়ত্ব শেষ হবে কবে?


মোহাম্মদ সোহেল রানা,
ঘটিভাঙ্গা থেকে। 

পাঠক প্রতিবেদন।। সবুজ অরণ্যে মাইগ্রোব ঘেষে গড়ে উঠা কুতুবজোমে বিশ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস জনবহুল ঘটিভাংগা গ্রামটি। মহেশখালীর মানুষেরা ঘটিভাংগা গ্রামকে অর্থনৈতিক অঞ্চল বলে অবহিত করে থাকেন। কেননা আয়ের অনেক উৎস রয়েছে সেই গ্রামে। ঘটিভাংগা গ্রাম দিয়ে নিত্যদিনেই চলাফেরা করেন সোনাদিয়ার দ্বীপের মানুষ এবং ভার্জিন আইল্যান্ড নামে খ্যাত সোনাদিয়া দ্বীপ দেখতে আসা হাজারো পর্যটন।

সোনাদিয়া দ্বীপে যাওয়ার জন্য ঘটিভাংগা গাড়ি হতে নেমে দেখতে পাওয়া যায় ইট-কংক্রিটবিহীন রাস্তা। যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পর্যটক এবং স্থানীয় জনগনদের। বহু বছর ধরে পড়ে আছে অযত্নে রাখা ঘটিভাংগায় এক মাত্র সংযোগ ব্রিজ। অযত্নে রাখার ফলে ভাঙ্গন শুরু হয়ে ব্রীজের।

তৎকালীন ২০০৫-০৬ সালে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এমপি আলমগীর ফরিদের তত্ত্বাবধানে ব্রীজ কাজ শুরু হয়। প্রথমে আংশিক কাজ করে বন্ধ হয়ে যায়। পরে বাকী অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার পর ব্রীজে কাজ আর হয়নি।

ব্রিজ বাকী হবার নানান অভিযোগ রয়েছে। স্থানীরা বলেন দুর্নীতির ফলে ব্রিজের কাজ সমাপ্ত হয়নি। যার ফলে ভোক্তভোগী ঘটিভাংগা-সোনাদিয়ার বাসিন্দা এবং পর্যটকমহল।

স্থানীয় সতেচন নাগরিক ইব্রাহিমের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্রীজের দৈর্ঘ্য যতটুকু দরকার তার চেয়ে অনেকটা কম হয়েছে। ফলে খালের স্রোতের মধ্যেই ব্রীজ স্থাপিত হল যার কারণে রাস্তা ঠিকছে না। তিনি আরো বলেন,প্রস্থ হবার কথা ছিল ১৮ ফুট কিন্তু হয়েছে ৮ ফুট। যা ব্রীজের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। উচ্চতার চেয়ে অনেক টা কম হবার কারণে বোট পারাপারে সমস্যায় পতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, এক সময় ইটের সাথে ইটের সংযোগে সাঝাঁনো রাস্তা ছিল। জোয়ারের পানিতে কতই না সুন্দর লাগতো। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় স্থানীয় প্রভাবশালী এবং কিছু অসাধু মানুষ রাতের বেলায় ইট চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ফলে আজ এই 'ব্রীজ আছে রাস্তা নেই' এই প্রবাদের মুখামুখি হতে হচ্ছে।

কুতুবজোমের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খোকন বলেন, ব্রিজের কাজ সম্পন্ন যতটুকু হয়েছিল তা আমি চেয়ারম্যান হবার বহু বছর পূর্বে। আমি আসার পর থেকে ব্রীজ সংস্কারের কোন বাজেট হয়নি। সিসিডিবি হতে ব্রীজ পর্যন্ত ইটের যে রাস্তা ছিল তার রাতে চুরি করাতে রাস্তাটি বিলীন হয়ে যায়। যার ফলে ভোগান্তির শিকার জনগন।মানুষের ভোগান্তি দূর করতে রাস্তা পরিমাপ করা হয়,কিন্তু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আপত্তি করাতে বাজেট করতে পারেনি।

এমতাবস্থায় স্থানীয় জনগণ এবং পর্যটক মহলের সুবিধার জন্য যত দ্রুত সম্ভব রাস্তা চাই এবং ব্রিজ সংস্কার চাই। কেননা, ভোগান্তির ফলে পর্যটক মহলের অনিহা প্রকাশ এবং স্থানীয় মানুষের কষ্টের দূর করতে চাই।

No comments

Powered by Blogger.