আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

মাতারবাড়ির চেয়ারমানকে দুদকে তলব, হাজির না হওয়ার তথ্য; চেয়ারম্যান বলেছেন ষড়যন্ত্র - মহেশখালীর সব খবর

মাতারবাড়ির চেয়ারমানকে দুদকে তলব, হাজির না হওয়ার তথ্য; চেয়ারম্যান বলেছেন ষড়যন্ত্র


আ ন ম হাসান।। দুর্নীতি তথা বিশাল অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার আওতায় মহেশখালীর মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ তলব করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। আলাদা তথ্য সূত্র বলেছেন -তিনি নিদৃষ্ট সময়ে কমিশনে হাজির হননি। অপরদিকে মাতারবাড়ির চেয়ারম্যান বলেছেন তিনি তাকে তলব সংক্রান্ত কোনো পত্র বা নোটিশ পাননি। আগামী ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। নোটিশ পেলে তিনি অবশ্যই হাজির হতেন। 

দুদক কার্যালয়ের বরাতে চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহকে তলবের একটি পত্র (নোটিশ) ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   নোটিশে ঘুষ হিসেবে ৯৩ হাজার ৬০ লাখ টাকা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে তার বক্তব্য গ্রহণের জন্য তাকে নিদৃষ্ট সময়ের মধ্যে দুদক-চট্টগ্রাম কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নাই মর্মে ধরে নেওয়া হবে বলে এ পত্রে ইঙ্গিত করা হয়। 

তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ পত্রে নোটিশকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল মোহর নাই। তাতে বিষয়টির সত্যতা নিয়ে প্রশ্নও দেখাদেয়। এমন পটভূমিতে সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা টেলিফোনে নোটিশের বিষয়টি সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন এক সাংবাদিককে। চেয়ারম্যান নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়নি বলেও তিনি সাংবাদিককে তথ্য দেন। তবে এ চিঠি প্রকাশ হলো কিভাবে তা নিয়ে এ কর্মকর্তা কিছুটা বিষ্ময়ও প্রকাশ করেন। [ সঙ্গত কারণে আমরা চিঠিটার ছবি প্রকাশ করিনাই ]

পত্রে অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় -জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কক্সবাজারে কর্মরত সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্টগণ একে অপরের যােগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে কক্সবাজার জেলার ভূমি অধিগ্রহণের বিভিন্ন প্রকল্প হতে জমির মালিকদের নিকট থেকে তিরানব্বই লক্ষ ষাট হাজার একশত পঞ্চাশ টাকা ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন পূর্বক ভোগ দখলে রাখার মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করে। 

উল্লিখিত মামলার বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের লক্ষ্যে গত ১৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় রেকর্ডপত্র-কাগজপত্র নিয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এ  তাকে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়। 

নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে বর্ণিত মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহর কোন বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে বলেও এ পত্রে উল্লেখ করা হয়। 

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সন্ধ্যার পর থেকে চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহর ব্যবহৃত ফোন নম্বরে বার বার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি, ফলে তার সাথে সরাসরি কথা বলা বা তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

তবে আমাদের একজন টিম মেম্বারকে তিনি এমন কোনো চিঠি পায়নি এবং বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান। 

এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন সিল-স্বাক্ষরহীন পত্রের বিষয়ে আমরা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি। এরইমধ্যে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা [ সঙ্গত কারণে নাম-পদবি উল্লেখ করা হয়নি ] সাংবাদিকের কাছে নোটিশ ও তার উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানাযায়। 

অপরদিকে ফেসবুকে এমন আলোচনার এক পর্যায়ে রাত ১০টার কিছু সময় আগে চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ তার ফেসবুক আইডিতে এ ইস্যুতে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি তার নিজের ছবি ও ফেসবুকে প্রকাশ পাওয়া নোটিশের ছবিসহ আত্মপক্ষ সমর্থন করে কিছু তথ্য জানান। তবে তিনি পোস্ট প্রকাশের ৩ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টটি মোট ৫ বার সম্পাদনা বা পরিবর্তন করেন। এতে পোস্টের বক্তব্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন। 

তার এ পোস্টেই মো. এরফান হোছাইন নামের একজন সাংবাদিক দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ঘটনাটি সতভাগ সত্য বলে দাবি করে কমেন্ট করেন। তিনি লিখেন -"ঐ অভিযোগটা ১০০% সত্য কেননা আমি নিজেই দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা .. সাহেবের সাথে কথা বলে সত্যতা পেয়েছি ও ফোনালপ রেখেছি। সুতরাং এই বিষয়ে কারো সন্দেহ বা মিথ্যে নোটিশ এমনটা মনে করার ০% চিহ্ন নেই।"

এদিকে রাত সাড়ে ১০টায় ফেসবুক মেসেনজারে চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহর সাথে আমাদের আলাপ হয়। মহেশখালীর সব খবর এর পক্ষ থেকে তার কাছ থেকে উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য চাওয়া হয়। এ সময় তিনি তার বক্তব্য তার ফেসবুক স্ট্যাসের মাধ্যমে দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি এ স্ট্যাটাসটি দেখার অনুরোধ জানান। 

রাত ২টায় এ প্রতিবেদন সম্পাদনার সময় তার ফেসবুকে যে পোস্টটি ছিল -সেখানে বলা হয় -"আদৌ এ জাতীয় কোন চিঠি আমার হস্তগত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন ফোনও আমি পাইনি।পেলে অবশ্যই হাজির হতাম, কেন পাইনি তাও আমার জানা নেই। আমার দৃঢ বিশ্বাস বিষয়টি ষড়যন্ত্র মুলক। আসন্ন ইউ.পি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মার প্যাচে ফেলার পরিকল্পিত হীন উদ্দেশ্যে মিথ্যে ভিত্তিহীন অভিযোগ হতে পারে।" [ তার সম্পূর্ণ বক্তব্যটি হুবহু প্রকাশ করব আমরা ] 

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুক ব্যবহারকারিরা মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহর নানামুখি সমালোচনা করে বিভিন্ন মন্তব্য প্রকাশ করতে দেখাযায়। অনেকেই আবার চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিষয়টি মিথ্য ও ষড়যন্ত্রমুলক বলে মত দেন। 


[ Editorial note: মূল প্রতিবেদন আ ন ম হাসান, প্রতিবেদনটি তৈরি করতে আমাদের আরও দুইজন টিম মেম্বার কাজ করেছেন। সম্পাদনা -মাহবু্ব রোকন। আমরা ফেসবুকে পাওয়া পত্র, কর্মকর্তার নাম-পদবি প্রকাশ করিনাই। আমরা কেবল বিষয় হেতু ঘটনা পরম্পরা ঝরঝরে উপায়ে তুলে এনেছি। আমরা চেয়ারম্যানের ছবিও প্রকাশ করতাম না। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত পোস্টে এ চিঠির সাথে  নিজের ছবি প্রকাশ করেছেন -তাই ওই যুক্তিতে আমরা খবরের সাথে তার ছবি ব্যবহার করেছি। এ ধরনের আরও প্রতিবেদনের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন। আমরা সব পক্ষের সমান মত প্রকাশে বিশ্বাসি ]

No comments

Powered by Blogger.