আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

হারিয়ে যাচ্ছে বেত শিল্প, পেশা বদলে অন্যকাজে মহেশখালীর কারিগররা - মহেশখালীর সব খবর

হারিয়ে যাচ্ছে বেত শিল্প, পেশা বদলে অন্যকাজে মহেশখালীর কারিগররা


রকিয়ত উল্লাহ।।
মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে বেত শিল্প। কমে আসছে বেত বাগান। বেতের ব্যবহার কমে যাওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চাষিরা। প্রায় দেড়যুগ আগেও মহেশখালী পাহাড়ি ঢালু ও কৃষকদের পতিত জমিতে বিশাল বিশাল বেত জঙ্গল ছিল। সেসব জঙ্গলে রোপণ ছাড়াই প্রকৃতির নিয়মেই বেত গাছ জন্মাত।বাণিজ্যিক ভাবে তেমন সুবিধা করতে না পেরেই বেত বাগান কেটে অন্য গাছ রোপন করে আসছে কৃষকেরা।

বিভিন্ন সূত্রের সাথে আলাপ করে জানাযায় -এক যুগ আগেও মহেশখালীতে বেতের তৈরী জিনিসপত্র নেই এমন পরিবার খুঁজেই পাওয়া যেতো না। আধুনিকতায় ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে এ বেত শিল্প। গ্রাম বাংলার আনাচে-কানাচে ঝোপ-ঝাড়ে এক সময় বেড়ে উঠত বেত গাছ। অনেকটা অযত্নে -অবহেলায় বাড়ত বেতগাছ। বেতের কদর কিন্তু এতটুকু কম ছিল না। তখন বেতের তৈরী বিভিন্ন জিনিসপত্র হাটবাজারের পাশাপাশি শহরেও বিক্রি হতো। কালের বিবর্তনে এখন আর সহজে সেই চিরসবুজ বেত ঝাড় দেখা যায় না।

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ষাইটমারা গ্রামে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একটি ছোট বেত ঝাড়। অন্যদিকে ছোট মহেশখালী, কালারমার ছড়া, হোয়ানক ও বড় মহেশখালীতে কিছু কিছু পাহাড়ি ঢালুতে বেত দেখা দিলেও তা রক্ষার তেমন কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বাণিজ্যিক ভাবে বেত চাষ করতে কোন উদ্যোগ নেই কৃষি অফিসের। অন্যদিকে বেত চাষীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা না থাকায় চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে চাষিরা।

মূলতঃ আগে গ্রামের মানুষের ব্যবহারের জন্য চাল ও ধান পরিমাপের টালা, পাল্লা, ঝুড়ি, ঝাঁকা, ধামা বা টুকরি, শীতল পাটি, নামাজের পাটি, ভাত খাওয়ার পাটি, হাত পাখা, হাতের লাঠিসহ নানা ধরণের জিনিসপত্র বেত দিয়ে তৈরি হতো। আর শহরের অভিজাত শ্রেণির জন্য বেতের চেয়ার, সোফা, দোলনা, ফুলদানি তৈরি হতো। এগুলো বিক্রি করে লাভবান হতেন বেতের পণ্য তৈরির কারিগররা। প্রতিটি বাড়িতে ওইসব পণ্যের প্রচুর চাহিদা ছিল। তবে ধীরে ধীরে এখন এসব পণ্যের কদর কমে গেছে। অন্যদিকে বেতের সামগ্রীর স্থান দখল করে নিয়েছে স্টিল, প্লাস্টিকের পণ্য-আসবাবপত্র। আধুনিকতার প্রভাবে এখন বেতের পণ্যসামগ্রীর ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। ফলে এর সঙ্গে যুক্তরা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছে।

কালারমার ছড়ার উত্তর নলবিলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের অনেক বড় বেত বাগান ছিল। কিন্তু বেত তেমন চাহিদা না থাকায় বেত বাগান কেটে এখন সুপারি গাছ রোপন করেছি।

মহেশখালীর কৃষিবিদ শহীদুল্লাহ বলেন, বেত হল একটি শিল্প। আগের দিনে জমিদারেরা বেতের জিনিসপত্র ব্যবহার করত। বেত ও বেতের তৈরী জিনিসপত্র  পরিবেশের জন্য খুবই উপযোগী। কিন্তু বর্তমানে বেতের তেমন ব্যবহার দেখা যায় না। বেত বাগান রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এদিকে মহেশখালী বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১৪০ হেক্টর বনভূমিতে প্রায় ১৫টি বেত বাগান রয়েছে। সেখানে বেত বাগান গুলো পরিচর্যা করেন বনকর্মীরা।  

মহেশখালী উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিজিৎ বড়ুয়া বলেন, পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালীতে আমরা বেত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বেত বাগানগুলো পরিচর্যা করি এব যে বেত বাগান গুলো আছে সেগুলো রক্ষা ও বাগান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি।

No comments

Powered by Blogger.