আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

কালারমার ছড়ার বিদ্যালয়ের মাঠ রক্ষায় স্থানীয়দের উদ্যোগ, স্থায়ী কাঠামো দাবি - মহেশখালীর সব খবর

কালারমার ছড়ার বিদ্যালয়ের মাঠ রক্ষায় স্থানীয়দের উদ্যোগ, স্থায়ী কাঠামো দাবি


রকিয়ত উল্লাহ।।
মহেশখালীর ক্রীড়া অঙ্গনের পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কালারমার ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পার্শ্ববর্তী ছড়া থেকে প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলনের ফলে মাঠের একাংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় ক্রীড়াপ্রেমি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষকসমাজ ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিষয়টি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের সাধ্যমতো এই বৃষ্টিতে মাঠটিকে ভাঙন থেকে রাক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থায়ীভাবে মাঠটি রক্ষ করার জন্য দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ছড়া থেকে বালি উত্তোলন বন্ধের দাবিও রয়েছে তাদের।

জানাযায়, কালারমার ছাড়া আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সাথে লাগোয়া ছড়া থেকে প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন করা হচ্ছিল। ছড়া থেকে এভাবে বালি উত্তোলনের ফলে বিদ্যালয়ের গাইড়ওয়াল দুর্বল হয়ে পড়ে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টি কারণে ছড়া দিয়ে পানি চলাচলের সময় গাইড়ওয়াল ভেঙ্গে খেলার মাঠের একাংশ তলিয়ে যায়। পাশাপাশি ঢলের পানি ঢুকে প্লাবিত হয় আশপাশের বাড়ি।


এদিকে এলাকার ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠের এমন অবস্থা দেখে স্থানীয় তরুণগণ ও ফুটবল একাডেমির উদ্যোগে নিজশ্রমে স্থানীয় বাসিন্দা এড. নোমান শরীফের সহযোগিতায় খেলার মাঠ রক্ষা করার জন্য বালি ভর্তি বস্তা ও বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে কোনো রকমে মাঠ রক্ষার চেষ্টা চালায়। তারা সরকারি উদ্যোগে মাঠ রক্ষার জন্য টেকসই কাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় খেলোয়াড় নুরুল হক মেহেদী জানান, এই খেলার মাঠটি জেলায় খুবই পরিচিত, এই মাঠ থেকে জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অনেকে খেলোয়াড় উঠেছে -তাই মাঠটি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।  

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের কৃতি খোলোয়াড় মতিউর রহমান মুন্না জানান, এই মাঠ থেকেই আমার বেড়ে ওঠা, এখন জাতীয় ভাবে প্রতিনিধিত্ব করছি, নাড়ির টানে এই মাঠ আমার খুবই প্রিয়। আমার মতো অনেক তরুণ খেলোয়াড় এই মাঠ থেকে উঠে আসবে জাতীয় পর্যায়ে। সেই মাঠ রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব। তিনি বলেন -মাঠ ভাঙ্গনের সাথে সাথে কালারমার ছড়া ফুটবল একাডেমির উদ্যোগে আমরা মাঠটি রক্ষা করার চেষ্টা করি। স্থায়ী ভাবে মাঠটি রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা এডভোকেট নোমান শরীফ জানান, মাঠের প্বার্শবর্তী ছড়া থেকে অতিরিক্ত বালু তোলার কারণে মাঠের একাংশ ভেঙ্গে যায়। যা স্থানীয় যুবক ও ফুটবল একাডেমির লোকজনের নিজশ্রমে রক্ষা করা হয়। স্থায়ী ভাবে খেলার মাঠ রক্ষা করার জন্য আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে গাইড়ওয়াল নির্মাণের জন্য প্রশাসনের নিকট আবেদন জানান তিনি।

কালারমার ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ জানান -স্কুলের মাঠের কিছু অংশ ছড়ার পানি চলাচলের সময় গাইড়ওয়ালসহ ভেঙ্গে গেছে। আমি বিষয়টা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাফুজুর রহমান খেলার মাঠটি রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।

No comments

Powered by Blogger.