আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

ফের লবণ আমদানির ষড়যন্ত্র - মহেশখালীর সব খবর

ফের লবণ আমদানির ষড়যন্ত্র

সৈয়দুল কাদের।। দেশে লবণের কোন ঘাটতি নেই। তবু সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশি লবণ আমদানির চক্রান্ত অব্যাহত করছে একটি চক্র। লবণ আমদানির ষড়যন্ত্রের কারণে দাম বাড়ছে না দেশীয় লবণের। এতে ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক লবণ চাষীরা।

বিসিক কক্সবাজার অফিস সুত্র বলছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  প্রায় ৭ লক্ষ মে.টন লবণ মজুত ছিল। আগামী তিন মাসের চাহিদা অনুযায়ী লবণ দরকার হবে সাড়ে ৫ লক্ষ মে. টন লবণ। বিপরীতে মজুত আছে ৭ লক্ষ মে.টন। তাই দেশে লবণের কোন সংকট নেই। আমদানির প্রয়োজন পড়বে না।তারপরও একটি চক্র লবণ আমদানি করতে মাঠে সক্রিয়। ওই চক্রটি ইতোমধ্যে সরকারকে ২ লক্ষ মে.টন লবণ আমদানির প্রস্তাবনা পেশ করা করেছে।

আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেছেন, অহেতুক লবণ আমদানির ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পুনরায় অবহিত করা হবে।

এদিকে দেশে উৎপাদিত লবণ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকার পরও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিদেশি লবণ আমদানির ষড়যন্ত্র রুখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে কক্সবাজার লবণচাষী সংগ্রাম পরিষদ।

কক্সবাজার লবণ চাষী সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক সাজেদুল করিম বলেন, দেশে উৎপাদিত লবণ যেখানে দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে এখনও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়েও বেশি লবণ মজুত রয়েছে, সেখানে লবণ মালিক সমিতি নামের একটি অকার্যকর সিন্ডিকেট আবারও সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশি লবণ আমদানির পাঁয়তারা করছে। এই মুহূর্তে দেশীয় লবণশিল্প বিরোধী ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। লবণচাষীদের বাঁচাতে এর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে প্রায় ৫৫ হাজার লবণচাষী রয়েছেন। এছাড়াও লবণের উপর বিভিন্ন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন আরও ৮০ শতাংশ মানুষ। ফলে দেশীয় লবণ শিল্প ধ্বংস হয়ে গেলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়বেন, যাদের অন্য কোন পেশা নেই।

লবণ ব্যবসায়ি মনজুর আলম বাদশা জানিয়েছেন, দেশীয় লবণ চাষীরা যখন আগামি মৌসুমের লবণ উৎপাদনের জন্য মাঠে নেমে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিক ওই সময়ে একটি অসাধু চক্র আগামি মৌসুমে দেশে লবণের সংকট হতে পারে- এমন তালবাহানা তুলে সরকারের উচ্চ মহলে ও স্থানীয় প্রশাসনে ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশী লবণ আমদানির ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এসব রক্তচোষা সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হলে লবণ চাষের জন্য লোক পাওয়া যাবে না।

বিসিক সূত্রে জানা যায়, দেশে ২০২১ লবণের চাহিদা ১৯ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। আর দেশে ২০২১ সালে লবণ উৎপাদন হয় ১৬ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়াও ২০২০ সালে ৩ লাখ ৪৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। বর্তমানে প্রায় প্রায় লাখ মেট্রিক টন মজুদ ছিল যা ২০২১ সালের চাহিদা পুরণ করে আরও ৫১ হাজার মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে।

লবণ চাষীদের মতে সিন্ডিকেটের আসল রহস্য উন্মোচন করা জরুরী। তারা ভুল তথ্য দিয়ে এই শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়।

সরকার বিদেশী লবণের উপর কর আরোপ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম দাম বৃদ্ধির অপচেষ্টা বন্ধ করে দেয়ার পর যখন লবণ চাষী ও ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে ছিল। আমদানির ষড়যন্ত্রের কারণে এখন আশাহত চাষীরা।

No comments

Powered by Blogger.