আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

হোয়ানকে ছড়ায় মেশিন বসিয়ে প্রতিযোগিতা দিয়ে চলছে অবৈধভাবে বালি তোলার মহোৎসব - মহেশখালীর সব খবর

হোয়ানকে ছড়ায় মেশিন বসিয়ে প্রতিযোগিতা দিয়ে চলছে অবৈধভাবে বালি তোলার মহোৎসব

প্রশাসন ও চেয়ারম্যানকে অবগত করে পানি চলাচলের ছড়া থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের দাবি--বালু খেকোদের


রকিয়ত উল্লাহ।।  মহেশখালী উপজেলায় হোয়ানকে পানি চলাচলের ছড়া থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলার মহোৎসব চলছে। প্রশাসন ও চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে দিন রাত ৩ টি বালি তোলার মেশিন দিয়ে প্রতিযোগিতা দিয়ে বালি উত্তোলন করছেন প্রভাবশালীরা। ফলে ছড়ার চারপাশের বাধ ভেঙ্গে নষ্ট হচ্ছে আশেপাশের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। ছড়া থেকে প্রতিনিয়ত  বালি উত্তোলনে সামনের বর্ষা মৌসুমে হুমকির মধ্যে পড়বে সেখানকার ৫শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসিল জমি।

স্থানীয়রা জানায়, হোয়ানকের বড়ছড়া নামক পানি চালাচলের ছড়া থেকে ৩ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তেলন করে আসছে স্থানীয় শহিদুল ইসলাম প্রকাশ শহিদ ও রাসেল। তারা ছড়া থেকে মেশিন দিয়ে বালি উত্তেলন করে পাশের একটা জমিতে স্তুপ করে। পরে সেখান থেকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে ডাম্পার যোগে বালি পাচার করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোয়ানকের বড়ছড়ায় মেশিন বসিয়ে পাইপ লাইন দিয়ে বালি উত্তোলন করে এক জায়গায় স্তুপ করা হচ্ছে। সেখানে ডাম্পার যোগ বালি গুলো পাচার করা হচ্ছে। সেখানে দায়িত্বরত চন্দন নামে একজন এসে জানান, প্রশাসন ও চেয়ারম্যানকে অবগত করে স্থানীয় শহিদুল ইসলাম প্রকাশ শহিদ ও রাসেল মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করেছে। সেখান থেকে প্রতি ডাম্পার ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান।

এদিকে শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বালি উত্তোলনের কথা শিকার করে দুরে আছে বলে জানান।

এছাড়াও বড়া ছড়া কালভার্টের পাশে মেশিন বসিয়ে পাইপ লাইন টেনেও বালি উত্তোলন করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করেছেন সদ্য নির্বাচিত মেম্বার আশেক এলাহী। তার সাথে কথা বললে তিনি বালি উত্তোলনের কথা স্বীকার করে  বলেন, হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান মীর কাসেম চৌধুরীকে অবগত করেই রাস্তার উন্নয়নের জন্য বালি উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান মীর কাসেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ছড়া থেকে বালি উত্তোলনের বিষয়ে  তিনি কিছু জানেন না।

এদিকে অনবিরত দিন-রাত অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করলেও প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবাদী নেতারা।  বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মহেশখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, মহেশখালীতে পাহাড়ি ঢালু ও পানি চলাচলের ছরা থেকে কমপক্ষে ১০০টি স্পট থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করলেও কোন অভিযান না থাকায় দিন-রাত বালি উত্তোলন করছে ভূমিখেকোরা । এর ফলে পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে নিয়মিত । সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় বালি খেকোরা আরো দিন দিন বেপরোয়া হচ্ছে বলে মনে করেন । তাই এসব বালি খেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবীও জানান তিনি ।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলামের সাথে একাধিকবার  যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

[ প্রতিবেদনটি সম্পাদনার পর্যায়ে আছে।]

No comments

Powered by Blogger.