আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

কালারমার ছড়া বাজার এলাকায় ১৪ বছরে ১৪ মার্ডার - মহেশখালীর সব খবর

কালারমার ছড়া বাজার এলাকায় ১৪ বছরে ১৪ মার্ডার


ডেক্স রিপোর্ট।।
মহেশখালী উপজেলার কালারমার ছড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বাজার এলাকায় গত ১৪ বছরে ১৪টি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। এসব হত্যাকান্ডে যেমন স্থানীয়দের ভাবিয়ে তুলেছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৩০০ পরিবার। এতে কার লাভ কার ক্ষতি তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এদিকে সামাজিকভাবে কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বিষয় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা ভেস্তে যায়।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে কালারমার ছড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বলি খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সুত্রপাত হয়। এতে তৎকালীন যুবলীগ নেতা ছৈয়দ নুর বাঙ্গালী ও খউসঅর গোষ্টির সাথে ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। তখন ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছৈয়দ নুর বাঙ্গালীর সৎ ভাই সাবেক চেয়ারম্যান ওসমান গণী। ক্ষমতার প্রভাবের কারণে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে খউসঅর গোষ্টির লোকজন। ওই পরিবারের অন্যতম সদস্য ছিলেন জিয়াউর রহমান। তবে এসময় কোন হত্যাকান্ড কিংবা দখলবাজির মত কোন ঘটনা ঘটেনি।

২০০১ সালে ক্ষমতার পালাবদলের পর ওই গোষ্ঠির লোকজনের প্রভাব বেড়ে যায়। এতে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় ওসমান চেয়ারম্যানের পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে। কালারমার ছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সাবেক মেম্বার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মুলত ২০০৭ সালে ছৈয়দ নুর বাঙ্গালীর নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানের পরিবারকে এলাকা ছাড়া করতে গিয়েই হত্যাকান্ড শুরু হয়। এর আগে বিএনপির এমপি আলমগীর ফরিদের আস্কারায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল জিয়া বাহিনী।

ঘটনার শুরুতেই একদিনে নিহত হন মোজাম্মেল, আবদুল গণী ও জয়নাল আবেদীন। এর কয়েকদিন পরেই নিহত হন নয়াপাড়ার ওসমান গণী। এরপরে গুপ্ত হামলায় ধারাবাহিকভাবে নিহত হন সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওসমান গণী, সাবেক মেম্বার ও তৎকালীন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জবল চৌধুরী, মৌলভী আবদুল গফুর, বেলাল উদ্দিন, রুহুল কাদের ও আলাউদ্দিনসহ ১৪ জন। এতে নিহতদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ সমর্থক।

স্থানীয় লোকজনের মতে, অপরাধে জড়িতদের আলোর পথে ফেরাতে চেষ্টা করলে কৌশলে বাঁধার সৃষ্টি করে প্রভাবশালীরা। বাহিনী না থাকলে স্থানীয়ভাবে ওই প্রভাবশালী মহলের আর গুরুত্ব থাকে না। যার ফলে কোন মামলা আপোষ করতে চাইলেও বাধার সৃষ্টি হয় প্রভাবশালী মহল থেকে।

স্থানীয়রা আরও মনে করেন, কালারমার ছড়ার স্থানীয় রাজনীতি সন্ত্রাস নির্ভর হয়ে পড়ে। যার ক্যাডার বেশী তিনিই নেতা, এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায় না। তাদের পক্ষে কথা বলতে বাধ্য হয়। বিপক্ষে কথা বললে মিথ্যা মামলা ও নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। বিগত সময়ে অনেকে সৌদি আরব, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে থেকেও হত্যা মামলার আসামী হয়েছেন এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে।
 
এদিকে গত ৫ নভেম্বর নিহত আলাউদ্দিনের জানাযায়, প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের উপস্থিতিতে খুনের যোগানদাতাদের ব্যাপারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোছাইন ইব্রাহীমের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। তিনি এসময় এলাকায় শান্তি শৃংখলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, কালারমারছড়ার মানুষ শান্তি চায়। যারা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করবে তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল হাই জানিয়েছেন,  যারা এসব ঘটনায় জড়িত তারা কোনভাবেই রেহাই পাবে না। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে এবং থাকবে। এসব খুনিদের ব্যাপারে কোন তথ্য থাকলে তা প্রশাসনকে দিয়ে সহযোগীতা করার অনুরোধ জানান তিনি।

No comments

Powered by Blogger.