আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

মহেশখালীর অদূরে সমুদ্রে একাধিক জেলে ট্রলারে দস্যুদের হানা, গুলি, লুটপাট। একাধিক জেলে আহত - মহেশখালীর সব খবর

মহেশখালীর অদূরে সমুদ্রে একাধিক জেলে ট্রলারে দস্যুদের হানা, গুলি, লুটপাট। একাধিক জেলে আহত


বিশেষ সংবাদদাতা।।

মহেশখালীর অদূরে সোনাদিয়ার কাছে জলদস্যুরা বেশ কয়েকটি ট্রলারে হানা দিয়েছে। এ সময় দস্যুরা জেলেদের উপর গুলি চালায় এবং তাদেরকে কুপিয়ে ও মারধর করে আহত করা হয়। জেলেরা দস্যু কবলিত চারটি জেলে ট্রলারের পরিচয় পেলেও দস্যুরা সমুদ্রে ধারাবাহিক ভাবে একাধিক ট্রলারে হানা দিতে দেখেছে। লুটপাট করে চলে যাওয়ার সময় জেলেদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল করে দেয়। উপকূলে ফিরে এসে আহত বেশ কয়েকজন জেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, এক জলের অবস্থা সংকটাপন্ন বলেও জানা গেছে। 

আমাদের নতুন ফেসবুক পেইজ🔽


আহত জেলেরা জানায়, গত ৫-৬ দিন আগে মহেশখালীর কুতুবজোম থেকে বেশ কিছু ট্রলার সমুদ্রে মাছ শিকারে যান। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে মহেশখালীর সোনাদিয়ার অদূরে সাগরের গুলিরদ্বার পয়েন্টে মাছ ধরতে জাল ফেলে জেলেরা। এ সময় বেশ কয়েকটি দস্যু ট্রলার অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে জেলেদের ট্রলারে হানা দেয়। জেলেরা দ্রুত ট্রলার চালিয়ে ওই স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দস্যুরা এলোপাথাড়ি গুলি করে। এতে জেলেদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অস্ত্রের মুখে বেশ কয়েটি মাছধরা ট্রলারে হানা দেয় দস্যুর দল। এ সময় জেলেদেরকে বেশ মারধর করা হয়, অনেককে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে মাছ, জাল, টাকা, তেল ও অন্যসব সরঞ্জাম লুট করে নেয়। দস্যুরা চলে যাওয়ার সময় জেলে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল করে দেয়। এর পর বুধবার সকালে সমুদ্রে মাছ ধরা অন্যান্য ট্রলারের সহায়তায় মহেশখালীর এফবি রাফান ও মায়ের দোয়া নামের দুইটি ট্রলার তাদের ২৭ জন জেলেসহ কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে ফিরে আসেন। পরে আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। জেলেরা জানিয়েছেন -তারা অন্ততঃ জেলেদের চারটি ট্রলারে দস্যুরা হানা দিতে দেখেছেন। দস্যুকবালিত দুইটি ট্রলার মহেশখালীর কুতুবজোমের বাকি দুইটি ট্রলার কক্সবাজারের খুরস্কুল এলাকার। 

হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া আহত জেলেরা হলেন- বাঁশি মাঝি, আলি হোসেন, আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ, রহিম, জাগির হোসেন, নছর উল্লাহ, শামসু আলম, জাহাঙ্গির আলম ও পুতু মিয়া। তারা সকলই মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকার জেলে।

দস্যু কবলিত ট্রলারের এক জেলে জানান- প্রথমে জলদস্যুদের ২টি ট্রলার এসে ইটপাটকেল মারতে মারতে ধাওয়া করে। এ সময় তাদের ট্রলার জোরে চালিয়ে স্থান ত্যাগ করতে চাইলে দস্যুরা তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি করে। ২০-২৫ জনের এ দস্যুরা একাধিক ট্রলার নিয়ে এসে হানা দেয়, তাদের কাছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ দা, কিরিচ ও লোহার রড় ছিল। 

কক্সবাজার হাসপাতালে আসা জেলেদের অনেকই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানা গেছে। তবে গুলিবিদ্ধ বাঁশি মাঝি নামের এক জেলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। 

মহেশখালী-কুতুবদিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, সমুদ্রে দস্যুতার খবর জেনেছেন তারা, সমুদ্রের যে পয়েন্টে ঘটনা ঘটেছে, তা বেশ দূরে, তারপরও  সাগরে জলদস্যুর রোধ করতে সক্রিয় রয়েছে পুলিশ। মহেশখালী থানার অপর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায় -প্রয়োজনীয় নৌযান না থাকায় সমুদ্রে দস্যুতার খবর পেলেও তারা অভিযান চালাতে পারে না। 

জেলে ও ট্রলার মালিকা জানান -গত কয়েক বছর ধরে সমুদ্রে দস্যুতা প্রায় বন্ধ ছিল, গত কয়েক মাস ধরে জলদস্যুরা ফের তাণ্ডব শুরু করেছে। সম্প্রতি এক জেলেকে দস্যুরা সমুদ্র ফেলে দিলে এখনও তার তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় সমুদ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজদারি ও অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। 

Mahbub Rokan//

No comments

Powered by Blogger.