গতকাল (রবিবার) দিনব্যাপী এক ব্যস্ততম সফরের মধ্য দিয়ে তিনি দ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যান। শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে তিনি যেমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, তেমনি তৃণমূলের সাথে নিজের রাজনৈতিক ও আত্মিক সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দিয়েছেন।
পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে মহেশখালী থেকে জলপথে কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ঘাটে এসে পৌঁছান তিনি। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ হাজারো মানুষ, কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানান। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঘাট এলাকা। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক বিশেষ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে মিলিত হন তিনি।
দুপুর গড়াতেই সাংসদের গাড়িবহর পৌঁছায় কুতুবদিয়ার প্রাণকেন্দ্র বড়ঘোপ বাজারে। সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাধারণ ব্যবসায়ী, পথচারী ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে তিনি অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন। এসময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে বিগত দিনের মতো আগামীতেও পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টানা গণসংযোগে তিনি পুরো দ্বীপের রাজনৈতিক মাঠ চষে বেড়ান। কৈয়ারবিল, দক্ষিণ ধূরুং বাজার এবং উত্তর ধূরুংয়ের আকবর বলির ঘাটসহ আশেপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লোকালয়ে থেমে থেমে পথসভা ও মতবিনিময় করেন তিনি। দীর্ঘ এই যাত্রায় পথে পথে সাধারণ জনতা তাকে হাত নেড়ে এবং ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। সাংসদও গাড়ি থেকে নেমে কিংবা হুডখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে জনতার এই ভালোবাসার জবাব দেন।
স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের পরপরই সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে আসার এই উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে আলমগীর ফরিদের অবস্থানকে আরও সংহত করেছে। এটি কেবল একটি শুভেচ্ছা সফর ছিল না, বরং দ্বীপ উপজেলার অবহেলিত জনপদের উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে তৃণমূলের মতামত নেওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন প্রয়াসও ছিল এতে।
দিনব্যাপী এই ব্যস্ত ও ক্লান্তিকর সফরসূচির শেষ পর্যায়ে বিকেল ৩টায় লেমশীখালী চৌমুহনী বাজারে পৌঁছান তিনি। সেখানে লেমশীখালী ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনতার সাথে এক বিশাল মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে তার এই ম্যারাথন গণসংযোগের সফল সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানগুলোতে কুতুবদিয়া উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, শ্রমিকদল, মহিলা দল, উলামাদল এবং জাসাস-এর সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের এই সফল সফর কুতুবদিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সচেতন মহল।
