Advertisement


মিয়ানমারে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প: কেঁপে উঠল বাংলাদেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে কম্পন দু’টির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫.৯ এবং ৫.২। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে অনুভূত এই জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।

আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৯। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের ইয়ানাংইয়াং (Yenangyaung) শহর থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার বা ৫৯ মাইল পশ্চিমে। 

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী দ্বীপ থেকে আনুমানিক ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এর ঠিক ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে দ্বিতীয় দফায় আবার কম্পন অনুভূত হয়। আফটার শক হিসেবে পরিচিত এই দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.২, যার উৎপত্তিস্থল ছিল আগেরটির কাছাকাছি এলাকাতেই।

মিয়ানমারে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল হলেও বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় এই কম্পন বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ঝাঁকুনি বেশি তীব্র ছিল। 

মহেশখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এবং ঘরবাড়ির আসবাবপত্র নড়ে উঠতে দেখা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূ-তত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের এই অঞ্চলটি ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী ক্যাটাগরির হওয়ায় কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকেও এটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। সাধারণত বড় কোনো ভূমিকম্পের পর এ ধরনের আফটার শক হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে কোনো দুর্বল বা ফাটল ধরা ভবনে অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারেও কোনো প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।