আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

মাতারবাড়িতে একটি পোয়া মাছ বিক্রি হলো ৭ লাখ টাকায় - মহেশখালীর সব খবর

মাতারবাড়িতে একটি পোয়া মাছ বিক্রি হলো ৭ লাখ টাকায়

একই ট্রলারে ধরা পড়া আরও ১৪টি কালো পোয়া বিক্রি হয়েছে ১১ লাখ টাকায়

রকিয়ত উল্লাহ।।
  মহেশখালীর মাতারবাড়িতে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিশাল আকারের একটি  'কালো পোয়া' মাছ। মাছটির ওজন ২৮ কেজি ।বৃহস্পতিবার রাতে সাগরে মাতারবাড়ির জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। এরপর মাছটি মাতারবাড়ির সাইরারডেইল বাজারের মাছের মহালে ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। পরে ক্রেতারা চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে মাছটি দ্বিতীয় দফায় বিক্রি করে বলে জানা যায়। একই ট্রলারে ধরা পড়া আরও ১৪টি কালো পোয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ১১ লাখ টাকায়।

সূত্রে জানা যায়, মাতারবাড়ি সাইরারডেইল এলাকার বহদ্দার ছৈয়দুল হকের মালিকানাধীন একটি ট্রলার গত কয়েক দিন আগে মাঝি-মাল্লা নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে গভীর সাগরে তার ট্রলারের জেলেদের জালে ধরা পড়ে বেশ কিছু কালো পোয়া মাছ। এর মধ্যে একটি মাছের ওজন ছিল ২৮ কেজি।

পরে মাছ ধরা ট্রলারটি রবিবার সকালের দিকে উপকূলে ফিরে আসে। এ সময় ট্রলারটি মহেশখালী উপকূলে ভিড়ে মাতারবাড়ির সাইরার ডেইল সৈকত এলাকায় নোঙর করে। পরে গ্রামের স্থানীয় মাছের মহালে ট্রলার থেকে মাছগুলো নিয়ে আসা হয়। এখানে উপস্থিত মাছ ব্যবসায়িরা নানা দরদাম করতে করতে এক পর্যায়ে ২৮ কেজি ওজনের এ একটি মাছের দামই ওঠে ৭ লাখ টাকা। পরে স্থানীয় কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী সম্মিলিত ভাবে মাছটি কিনে নেন।

ট্রলারের জেলেরা জানান, গত কয়েক দিন আগে সমুদ্রে মাছ ধরতে যায় তাদের ট্রলারটি। এক পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের জালে ১৫টি কালো পোয়া ধরা পড়ে। মাতারবাড়ির স্থানীয় মাছের মহলে ২৮ কেজি ওজনের বড় মাছটি বিক্রি করার পর বাকি ১৪টি মাছ চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটে নিয়ে গিয়ে ১১ লক্ষ টাকা দিয়ে বিক্রি করে৷

ট্রলারের মালিক ছৈয়দুল হক ৭ লাখ টাকায় একটি মাছ বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন। এতে তিনি বেশ খুশি ও লাভবান হয়েছে বলে জানান।
 
বেচাকেনার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাতারবাড়ি জেলে সমিতির নেতা মো. ইসমাইল জানান -এর আগে এই মাছের মহালে এতো বড় মাছ বিক্রি হয়নি।

৭ লাখ টাকায় এ মাছটি ক্রেতাদের একজন মাতারবাড়ির সাইরারডেইল এলাকার বাদশা সওদাগর।  তিনি জানান -তারা ৮জন মিলে মাছটি কিনি নেওয়ার পর তা চট্টগ্রামের মাছের পাইকারি হাটে নিয়ে যান। সেখানে ফিশারি ঘাটে অল্প লাভ করে তারা মাছটি বিক্রি করে দেন। তবে ঠিক কতো টাকায় চট্টগ্রামে মাছটি বিক্রি হয়েছে তিনি তা জানাতে রাজি হননি।

এ বিষয় মহেশখালী উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আব্দু রহমান জানান, বন্ধ মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকার সুফল পাচ্ছে জেলেরা। প্রজনন বৃদ্ধি ও ছোট মাছ গুলো বড় হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় জেলেরাও উপকৃত হচ্ছে। এর আগেও বড় বড় অনেক পোয়া মাছ পেয়ে অনেক জেলের কপাল খুলে গেছে। তবে এটিই সব চেয়ে বড় পোয়া মাছ, যা মহেশখালীর জেলেদের জালে ধরা পড়লো।

No comments

Powered by Blogger.