আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

সোনাদিয়ায় এবার একরাম মিয়ার রাজত্ব চলছে - মহেশখালীর সব খবর

সোনাদিয়ায় এবার একরাম মিয়ার রাজত্ব চলছে

ডেস্ক রিপোর্ট।। মহেশখালীর সোনাদিয়া এখন একরাম মিয়ার রাজত্ব চলছে, এখন তিনি সোনাদিয়ার রাজা। তার একক রাজত্ব চলছে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ এই সোনাদিয়া দ্বীপে। জলদস্যূতা, প্যারাবন নিধনসহ সকল অপকর্ম চলছে একরামের নিয়ন্ত্রণে। -খবর দৈনিক কক্সবাজার অনলাইন এর।

ইতোমধ্যে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন জলদস্যু বাহিনী। জলদস্যুদের লুট করা মালামাল ও দখলবাজি করে প্রতি মাসে তার অবৈধ আয় কোটি টাকা। যার ফলে একরাম আতংকে অনেকেই জেলে পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। মাছ ধরার ট্রলার কক্সবাজার আসতে না পেরে এখন চট্টগ্রাম মুখী হয়ে পড়েছে।

মহেশখালীর সোনাদিয়াসহ বঙ্গোপসাগরের মোহনা একচ্ছত্র আধিপত্য এখন একরামের। তার বাইরে কেউ কিছু করলে এলাকা ত্যাগ করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে সোনাদিয়ার মোহনায় প্রায় ৩০টি ট্রলার লুট হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় থেকেই বীরদর্পে নানা অপকর্ম চালাচ্ছে এই প্রভাবশালী একরাম। প্যারাবন নিধনের অভিযোগে সাবেক সাংসদ আলমগীর ফরিদের সাথে বন মামলার আসামী হলেও এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই একরাম। এই বন মামলায় সাবেক সাংসদ সহ অন্যান্য আসামীরা দীর্ঘদিন জেল হাজতে থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও একরাম রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

সোনাদিয়ার বাসিন্দা ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, একরাম এখন সোনাদিয়ার আতংক। সোনাদিয়া দ্বীপ এখন পর্যটকদের একটি আকর্ষনীয় স্থান। স¤প্রতি পর্যটকদের জন্য আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্রামাগার থেকে পর্যটকদের সুবিধার্থে অনেক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এতে এখন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এই একরাম। নাগু মেম্বারের মৃত্যুর পর সে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। প্রতিদিন সাগর থেকে জলদস্যুরা জাল, মাছ ও ট্রলারের বিভিন্ন জিনিস সোনাদিয়ায় নিয়ে আসে। এসব মালামাল একরামকে পানির দরে বিক্রি করতে হয়। পরবর্তিতে ট্রলারের মালিককে এসব মালামাল চড়া দামে বিক্রি করে একরাম।

এছাড়া একরামের নিয়ন্ত্রণে সোনাদিয়ায় খালাস হয় বড় ধরণের ইয়াবার চালান। তা নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে একরাম আদায় করে মোটা অংকের কমিশন। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ করার কেউ নেই। যারা অভিযোগ করবে তারা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। যার ফলে কেউ অভিযোগ করতে সাহস করে না।

এছাড়া তার দখলে রয়েছে প্রায় ১০০০ একর চিংড়ি ঘের। এসব চিংড়ি ঘের প্যারাবন কেটে করা হয়েছে বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের সময়ে। প্রতি বছর এসব চিংড়ি ঘের থেকে কয়েক কোটি টাকা আয় করে এই একরাম। তার কথা না শুনলে তাদেরকে জলদস্যু হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়। অনেক ব্যবসায়ী একরামের রোষানলে পড়ে এখন জেল হাজতে রয়েছে।

ঘটিভাঙ্গা ওয়ার্ডের একজন সাবেক মেম্বার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আমরা অসহায় দিনযাপন করছি। অভিযোগ করব কোথায়। একরামই এখন সব। তার কথা না মানলে সকল ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে অনেক জেলে তাদের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। একরামের চাহিদা মেটাতে না পেরে ট্রলার বিক্রি করে দিয়েছেন অনেক জেলে। যারা কক্সবাজারে মাছ বিক্রি করে তাদের অনেকেই এখন চট্টগ্রাম গিয়ে মাছ বিক্রি করছেন। সোনাদিয়ার মোহনা দিয়ে কক্সবাজার প্রবেশ করতে চাইলে একরামের সাথে সমঝোতা করতে হয়। তাই অতিষ্ট হয়ে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসছেন না অনেক মৎস্য ব্যবসায়ীর ট্রলার।

এ ব্যাপারে একরাম জানান, সোনাদিয়া জলদস্যুতার বিষয়টি আজকে নতুন নয়। আমার জন্মের আগে থেকেই চলছে। এতে শুধুমাত্র আমাকে দোষারোপ করা ঠিক হচ্ছে না। জলদস্যুদের মালামাল ক্রয় করার বিয়য়টিও সত্য নয়।

১০০০ একর নয়, ৩০০ একর প্রজেক্ট দখলে আছে জানিয়ে একরাম বলেন, এই প্রজেক্ট আমাদের পারিবারিক। আমরা সবাই ভাগ করে ভোগ করি। বিগত ১/১১ এর সময় সাবেক সাংসদ আলমগীর ফরিদের সাথে বন মামলার আসামী হওয়ার বিষয়টি অবশ্য তিনি  স্বীকার করেন।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল হাই জানান, অনেকেই মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন অপরাধী ছাড় পাবে না।

No comments

Powered by Blogger.