গত সপ্তাহজুড়ে ধলঘাটার হাঁসের চর সমুদ্রসৈকতে একাধিক মা কাছিমকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে এসব মৃত কাছিম অপসারণ করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক হুমায়ুন কবির জানান, ধলঘাটা সমুদ্রসৈকতের একটি স্থানে ১০ থেকে ১৫টি মা কাছিম মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তিনি নিজে সেখানে গিয়ে ছবি তুলেছেন। তার ধারণা, দূষণের কারণেই ডিম পাড়তে এসে কাছিমগুলো মারা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের চলমান নির্মাণকাজের ফলে সাগরে বর্জ্য পড়ছে। পাশাপাশি কাছিমের প্রজনন ও ডিম পাড়ার জন্য সংরক্ষিত ঝাউবাগান ও প্যারাবন ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে কাছিমের নিরাপদে ডিম পাড়ার জায়গা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দূষণ ও নিরাপদ প্রজননস্থল না থাকায় কাছিমগুলো উপকূলে এসে মারা পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
মাতারবাড়ি সাইরার ডেইল এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাগোয়া সৈকতেও একাধিক বড় আকৃতির মৃত কাছিম পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে এবং মাছও কমে গেছে। একই কারণে ডিম পাড়তে এসে কাছিমগুলো মারা যাচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
মহেশখালী পরিবেশ আন্দোলনের নেতা মৌলানা মহসিন বলেন, ধলঘাটা ও মাতারবাড়ী সৈকতে মা কাছিমের এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। কেন এই মৃত্যু ঘটছে তা বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করে বের করতে হবে। পাশাপাশি কাছিমের ডিম পাড়ার জন্য এসব এলাকা সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করে তাদের রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে মাতারবাড়ি বন বিট কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি এখনো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, ধলঘাটা ও মাতারবাড়ী সৈকতে মা কাছিমের মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
