মাহবুব রোকন।। মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় আট ঘণ্টার টানা অভিযানের পর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে। এ নিয়ে আজই তদন্ত কমিটি হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু হয়। এতে চারটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিটের ২১ জন ফায়ার ফাইটার অংশ নেন। ভোরের দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হওয়ায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
তিনি জানান, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পুরোনো ও অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ, লোহা, টিন ও বিভিন্ন সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে স্তূপাকারে জমা থাকায় সেগুলো পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে ছিল। স্তূপের ভেতর পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আগুন নেভাতে সময় বেশি লেগেছে। এক প্রান্তে আগুন নিভলেও অন্য প্রান্তে বারবার নতুন করে জ্বলে উঠছিল।
অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লার অংশে কোনো ক্ষতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল উৎপাদন এলাকার তুলনায় নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুনের তীব্রতা কমে যাওয়ার পর ডাম্পিং কার্যক্রম চালিয়ে সম্পূর্ণ নির্বাপণের শেষ ধাপ সম্পন্ন করা হয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার সংক্রান্ত হিসাব প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে থাকা সামগ্রীগুলোকে পুরোনো ও অব্যবহৃত বলে উল্লেখ করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণে আগ্রহ দেখায়নি। সে কারণে আনুষ্ঠানিক হিসাব ছাড়াই অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে আজকের মধ্যেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে বলে জানিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম। তিনি বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধারের হিসাবও নিরূপণ করা হবে।
