রকিয়ত উল্লাহ।। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে এর আগেই বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহাফুজ উল্লাহ ফরিদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের পক্ষে আজই মহেশখালীতে মাইকিং ও মিছিলের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করা হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রাতে একটি প্রচারণামূলক ভিডিও (রতের চিত্র সম্বলিত) পোস্ট করেন। তবে ভিডিওটি প্রতীক বরাদ্দের পর ধারণ করা নাকি আগের কোনো সময়ের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতীক বরাদ্দের পর বিকেল থেকে মাতারবাড়ি এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশায় মাইকিং করে এবং মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল আকারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালান। একইভাবে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরাও মাইকিং ও মিছিলের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করেন।
স্থানীয় সচেতন ভোটাররা বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরুর আগেই এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালানো উদ্বেগজনক। শুরুতেই প্রশাসন কঠোর অবস্থান না নিলে নির্বাচনী পরিবেশ যেকোনো সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে এবং সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর ফরিদ ও জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে কক্সবাজারের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সব খবরকে বলেন, “আগামীকাল (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। আজ কক্সবাজার-২ আসনে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালিয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।”
